বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

East Bengal: দুই গোলে এগিয়েও জয় অধরা, জর্ডন থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফিরছে ইস্টবেঙ্গল

17 September, 2026 2:18 AM Arko Banerjee
শেয়ার করুন

আম্মান: দুই গোলে এগিয়ে ছিল ডুরান্ড কাপ বিজয়ীরা। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল তাদের হাতেই। কিন্তু ৯০ মিনিট শেষে জয় নয়, জর্ডনের আম্মান থেকে এক পয়েন্ট নিয়েই ফিরতে হল লাল-হলুদকে। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-তে ইস্টবেঙ্গল বনাম আল হুসেইন ম্যাচ শেষ হল ২-২। প্রথমার্ধে দানি রামিরেজ় ও আনোয়ার আলির গোলে ২-০ এগিয়ে গিয়েও দ্বিতীয়ার্ধে দুই গোল হজম করল ইস্টবেঙ্গল। ৬১ মিনিটে মাহমুদ আল মারদি এবং ৮৭ মিনিটে আহমাদ আসাফ গোল করে সমতা ফেরান।

ইস্টবেঙ্গল বনাম আল হুসেইন: স্বপ্নের শুরু লাল হলুদের

শুরুটা ছিল ঠিক স্বপ্নের মতো। নবম মিনিটে এডমুন্ড লালরিনডিকার শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন আল হুসেইনের গোলরক্ষক ইয়াজ়িদ আবুলাইলা। ফিরতি বল পেয়ে গোল করেন রামিরেজ়। এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের জায়গা করে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ৪০ মিনিটে রামিরেজ়ের কর্নার থেকে আনোয়ার আলির হেডে দ্বিতীয় গোল। বিরতিতে ২-০। বিদেশের মাঠে তার চেয়ে ভালো শুরু আর কী হতে পারে!

দ্বিতীয়ার্ধে চাপে ইস্টবেঙ্গল

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য ম্যাচ। আল হুসেইন একের পর এক আক্রমণে উঠতে শুরু করল। ইস্টবেঙ্গল পিছিয়ে গেল অনেকটা। সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হল দুই প্রান্তে। জর্ডনের দল বারবার উইং দিয়ে উঠে ক্রস ফেলতে শুরু করল। ৬১ মিনিটে হার্দিক ভাটের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে খারৌবা বক্সে ঢুকে কাটব্যাক করেন। সেখান থেকেই আল মারদির গোল। ২-১।

ইস্টবেঙ্গল বনাম আল হুসেইন: জর্ডনে দু পয়েন্ট নষ্ট

তার পর থেকেই চাপ বাড়তে থাকে। ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠও আগের মতো বল ধরে রাখতে পারেনি। ফলে রক্ষণকে বারবার নিচে নেমে সামলাতে হয়েছে আক্রমণ। পরিসংখ্যানটা সেই ছবিই বলছে—আল হুসেইনের মোট ১৯টি শটের বিপরীতে ইস্টবেঙ্গলের শট মাত্র ৪টি। বলের দখলও ছিল জর্ডনের দলের কাছে প্রায় ৬০ শতাংশ। অর্থাৎ ২-০ এগিয়ে থাকার পর ইস্টবেঙ্গল ম্যাচটা নিজেদের শর্তে খেলতে পারেনি।

গিলের হাতে বাঁচল হার

শেষ ধাক্কাটা আসে ৮৭ মিনিটে। বাঁ দিক থেকে ওবেইদা আল নামারনাহের ক্রস। সেই বলেই গোল করে আসাফ। ২-২। এরপর সংযুক্ত সময়ে প্রভসুখন সিংহ গিল না থাকলে ছবিটা আরও খারাপ হতে পারত। গোলরক্ষকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভই শেষ পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গলকে অন্তত এক পয়েন্ট এনে দেয়।

ইস্টবেঙ্গল বনাম আল হুসেইন: হাবাসের দলের দুর্বলতা

তাই এই ড্রয়ের আসল কারণ শুধু সুযোগ নষ্ট নয়। ২-০ হওয়ার পর ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণাত্মক ছন্দ কমে যায়, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ আলগা হয় এবং দুই প্রান্তের রক্ষণ সামলাতে সমস্যা দেখা দেয়। আল হুসেইন সেই দুর্বল জায়গাটাই বারবার আক্রমণ করেছে। বিশেষ করে প্রথম গোলের আগে হার্দিকের বল হারানো এবং দ্বিতীয় গোলের সময় বাঁ দিক থেকে ক্রস আটকাতে না পারা বড় সতর্কবার্তা।

আরও পড়ুন: East Bengal: ডার্বির রেশ কাটতেই ধাক্কা, ইউনাইটেডের কাছে আটকে গেল ইস্টবেঙ্গল

আরও পড়ুন: East Bengal: ডুরান্ডের ছন্দ এশিয়ার মঞ্চেও ধরে রাখতে চান হাবাস

জর্ডনে জয় ফেলে এলেন হাবাসরা

তবে পুরো ছবিটা নেতিবাচকও নয়। আল হুসেইন জর্ডনের প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন এবং নিজেদের মাঠে খেলেছে। সেখানে প্রথমার্ধে ২-০ এগিয়ে যাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরা ইস্টবেঙ্গলের এশীয় অভিযানের শুরুটাকে মন্দ হতে দেয় না। এটাই এই ম্যাচের দ্বন্দ্ব—জয়টা হাতের মুঠোয় এসেও বেরিয়ে গেল, আবার হারও হয়নি।

সামনে শর্তা

এখন সামনে ইরাকের আল শর্তা। ১৩ অক্টোবর যুবভারতীতে সেই ম্যাচ। আম্মানের দ্বিতীয়ার্ধটা হাবাসের দলকে একটা বিষয় পরিষ্কার করে দিয়ে গেল—এশীয় মঞ্চে শুধু লিড নেওয়া যথেষ্ট নয়, লিড ধরে রাখার জন্য ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখতে হবে।

প্রতিবেদন

Arko Banerjee