প্রাক্তন সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে প্রাণ গেল দিল্লির যুবকের
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না রাজধানীর। এবার প্রাক্তন সহকর্মীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যু হল দিল্লির সরিতা বিহারের বাসিন্দা যুবরাজ সিংয়ের। উদ্ধার হয়েছে তার পচাগলা দেহ। জানা গেছে সপ্তাহখানেক ধরেই নিখোঁজ ছিলেন ওই যুবক। ঘটনায় যুবরাজের প্রাক্তন সহকর্মী অনয়া ভট্ট এবং তাঁর সঙ্গী সানিয়াম সচদেবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, অনয়া এবং তার স্বামী সানিয়াম দু’জনেই গুরুগ্রামের বাসিন্দা। ২০২২ সালে অনয়া এবং যুবরাজ একই সংস্থায় কাজ করতেন। কিন্তু টাকাপয়সা নয়ছয়ের অভিযোগ ওঠায় তাকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় চাকরি থেকে। এখন অনয়া এবং সানিয়াম দু’জনেই বেকার। মৃত যুবকের পরিবার জানিয়েছে, গত ৬ সেপ্টেম্বর তিনি গুরুগ্রামে গিয়েছিলেন। সন্ধে ৭টার সময় পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় যুবরাজের। তখন তিনি জানিয়েছিলেন রাত ১০টার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসবেন। কিন্তু সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও তিনি ফেরেনি। বন্ধ করা ছিল তার ফোনও। তার পরই পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি করে যুবরাজের পরিবার।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে অনয়ার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন যুবরাজ। তারপরই গত মঙ্গলবার অনয়া এবং তাঁর স্বামীকে উত্তরাখণ্ড থেকে আটক করে পুলিশ। জানা গেছে, জেরায় দম্পতি স্বীকার করেছেন যুবরাজকে খুন করে একটি বড় নর্দমায় ফেলে দিয়েছিল তারা। তদন্তকারীদের কাছে অভিযুক্ত দম্পতি দাবি করেন, খুনের পর সাত ঘণ্টা ধরে গাড়িতে যুবরাজের দেহ নিয়ে ঘোরাঘুরি করেছিলেন। তার পর বাড়ির পিছনে নর্দমায় দেহ ফেলে উত্তরাখণ্ডে পালিয়ে যান। এরপরই গ্রেপ্তার করা হয় অনয়া এবং সানিয়ামকে। পুলিশের ধারণা, আর্থিক বিষয় নিয়ে ঝামেলাই এই হত্যার নেপথ্য কারণ।
