ভোটার তালিকায় জালিয়াতির অভিযোগ, সোনিয়ার অস্বস্তি বাড়াল দিল্লির আদালত
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ১৯৮০ সালে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগে কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে। এর আগে এই মামলা খারিজের নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেট । সোমবার রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে সেই নির্দেশ বাতিল করে দেন। একই সঙ্গে পুলিশের কাছ থেকে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চেয়ে আগামী সপ্তাহে বিষয়টি নতুন করে শোনার নির্দেশ দেন ম্যাজিস্ট্রেটকে।
বিশেষ বিচারক জানান, ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগ খারিজের কারণ যথাযথভাবে ব্যাখ্যা করেননি। তাঁর মতে, ওই আদেশে অভিযোগে কোনও গুরুত্ব দেওয়ার মতো অপরাধ প্রকাশ পেয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনও যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্তই নেই। বিচারক বলেন, “বিএনএসএস-এর ১৭৫(৩) ধারা না মানা এবং তদন্তকারী অফিসারের বক্তব্য না শুনে ও স্ট্যাটাস রিপোর্ট না চেয়ে আদেশ দেওয়ার কারণে এতে আইনের স্পষ্ট ভুল রয়েছে।”
তাঁর পর্যবেক্ষণ, অভিযোগে অপরাধ হয়েছে কি না, সে বিষয়ে রায় না দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট শুধু অভিযোগটিকে অপ্রয়োজনীয় বলে দেগে দিয়েছেন। একাধিক অভিযোগের তথ্যগত সত্যতা যাচাই না করেই হালকাভাবে খারিজ করা হয়েছে মামলাটি। অভিযোগকারীর জমা দেওয়া নথির তাৎপর্যও আলোচনা করা হয়নি। বিচারকের ভাষায়, আদেশে “বিচারবুদ্ধির প্রয়োগের অভাব” রয়েছে, তাই তা বাতিলযোগ্য। এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ফেরত পাঠানো হয়। সোমবার আদালত জানিয়েছে, তদন্তকারী অফিসারের কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চাওয়া হবে এবং মামলা শুনবেন যিনি, তাঁকে আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ২৯ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। সেদিন ম্যাজিস্ট্রেট নতুন করে সওয়াল-জবাব শুনে নতুন নির্দেশ দেবেন।
আরও পড়ুন: উপনির্বাচনের আগে দলের নতুন লোগো প্রকাশ করলেন মমতা
গত ১১ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট বৈভব চৌরাসিয়া অভিযোগকারী বিকাশ ত্রিপাঠীর আবেদন খারিজ করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ভোটার হিসেবে নাম তুলতে সোনিয়া নথি জাল করেছিলেন, তা আদালতে প্রমাণ করার মতো জোরালো নথি নেই। তিনি বলেছিলেন, প্রতারণা বা জালিয়াতির আইনি উপাদান দাঁড় করানোর জন্য যে খুঁটিনাটি প্রয়োজন, তা নেই। তাঁর মতে, এটি নিছক ভিত্তিহীন দাবি কোনও আইনসম্মত অভিযোগ নয়। ত্রিপাঠী এই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেন। বর্ষীয়ান আইনজীবী অজয় বর্মন আদালতে জানান, ১৯৮৩ সালের ৩০ এপ্রিল সোনিয়া গান্ধী ভারতীয় নাগরিকত্ব নেন। অথচ তিন বছর আগে, ১৯৮০ সালেই তাঁর নাম ভোটার তালিকায় ওঠে। তাঁর আরও দাবি, ১৯৮২ সালে সোনিয়ার নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং ১৯৮৩ সালের ১ জানুয়ারি ফের তোলা হয়।
সোনিয়ার পক্ষের জবাব
সোনিয়া গান্ধীর আইনজীবী আর এস চিমা আদালতে এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ খারিজ করেছেন। তাঁর দাবি, এই অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কংগ্রেস নেত্রীর বিরুদ্ধে কারচুপি বা জালিয়াতির কোনও নথিগত প্রমাণ নেই। তাঁর মতে, রিভিশন আবেদনটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও আইনি প্রক্রিয়ার অপব্যবহারের জন্য অভিযোগকারীর মাধ্যমে দায়ের করা হয়েছে। সোনিয়ার আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগকারী কোনও সূত্র উল্লেখ করেননি, আবার অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে মূল নথি জোগাড়ের চেষ্টার কথাও জানাননি। ১৯৮২ সালে জনরোষের ফলে সোনিয়ার নাম বাদ গিয়েছিল বলে দাবি করা হলেও তার প্রমাণ নেই।
নাম ফের তোলানোর দাবি “বোধগম্য নয়” এবং তথ্যগত ভিত্তিহীন। কারণ জালিয়াতি বা নথি বিকৃতির কোনও প্রমাণ দেওয়া হয়নি।
সোমবারের রাউস অ্যাভিনিউ কোর্টের বিচারক গোগনে বলেন, ম্যাজিস্ট্রেট হাতে থাকা অভিযোগ থেকে সরে গিয়েছিলেন। তাঁর প্রশ্ন, “ভোটার তালিকায় প্রতারণামূলক অন্তর্ভুক্তি ও জাল নথি জমা দেওয়ার ঘটনায় পুলিশের পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা কেন বাধা হবে, এই আদালত তা বুঝতে অক্ষম।” তাঁর মতে, ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে আমলযোগ্য অপরাধ তদন্তের পুলিশি ক্ষমতা পরোক্ষভাবে বাতিল হয়ে যেতে পারে না। বিচারক আরও বলেন, দিল্লি পুলিশের তদন্তকারী অফিসারকে অভিযোগের জবাব দেওয়া ও স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার যথেষ্ট সময় না দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট “বিকৃত ও অনুচিত” আদেশ দিয়েছিলেন।
