আকাশপথে দুর্গত এলাকা পরিদর্শন মুখ্যমন্ত্রীর, বন্যার্তদের জন্য বড় ক্ষতিপূরণ ঘোষণা!
নিজস্ব প্রতিনিধি : পশ্চিম মেদিনীপুর ও পূর্ব মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির পর্যালোচনায় বৃহস্পতিবার সরজমিনে পৌঁছালেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন দুপুরে তিনি হেলিকপ্টারে চেপে সবং, ভগবানপুর এবং পটাশপুরের প্লাবিত অঞ্চলগুলি আকাশপথে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেলেঘাই নদীর জলস্তর মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল, যা বর্তমানে কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে প্লাবনের কারণে একাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, শুধুমাত্র সবং এলাকাতেই প্রায় ৩,২০০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পাশে দাঁড়াতে প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনকে একাধিক জরুরি নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। জলবন্দি সাধারণ মানুষের কাছে যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ, প্রয়োজনীয় রেশন এবং বিশুদ্ধ পানীয় জল নির্বিঘ্নে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দুর্গম ও বন্যাকবলিত এলাকায় সাপের উপদ্রব বাড়ায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। জানা গিয়েছে, এলাকায় ১০ জনকে সাপে কামড়ালেও দ্রুত চিকিৎসার মাধ্যমে তাঁদের সকলকে সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন : রক্তাক্ত যাদবপুর, রাজপথে রণক্ষেত্র দুই ছাত্র সংগঠন
এদিন সামগ্রিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী। উক্ত বৈঠকে জেলাশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জনস্বাস্থ্য কারিগরি (PHE) দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক এবং জেলার সমস্ত বিধায়করা উপস্থিত ছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের বন্যা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানোর জন্য রাজ্য সরকারের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত রাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতার কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এলাকার মানুষ বলছিলেন, ১৯৮৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু এখানে এসেছিলেন। তারপর এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী এই দুর্গম বন্যাকবলিত এলাকায় সরেজমিনে এলেন। আগের মুখ্যমন্ত্রীরা গ্রামের মানুষকে সেভাবে গুরুত্ব দিতেন না, কিন্তু গ্রামের মানুষের সঙ্গে আমার নাড়ির টান।” দুর্গত মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে দ্রুত পুনর্বাসনের আশ্বাস দেন তিনি।
