বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

হাইকোর্টের নির্দেশে শিলিগুড়িতে বুলডোজার, ঘরছাড়া বহু

15 September, 2026 5:58 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি সংক্রান্ত আইনি বিবাদের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী মঙ্গলবার সকালে শিলিগুড়িতে উচ্ছেদ অভিযান চালাল প্রশাসন। বুলডোজার চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো একাধিক অবৈধ নির্মাণ। এই আকস্মিক পদক্ষেপে দীর্ঘ দুই থেকে আড়াই দশক ধরে বসবাসকারী পরিবারগুলি কার্যত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। উল্লেখ্য, যে জমিতে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে, তার মালিকানা এবং দখলদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আদালতে মামলা চলছিল। আইনি জটিলতার জেরে অবশেষে হাইকোর্টের নির্দেশ আসে জমিটি জবরদখল মুক্ত করার। সেই নির্দেশকে কার্যকর করতেই মঙ্গলবার সকালে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বুলডোজার নামানো হয়। একের পর এক স্থায়ী ও অস্থায়ী ঘরবাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের দাবি, আদালতের রায় মেনেই আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের চোখে জল আর মুখে ক্ষোভের সুর। তাঁদের অভিযোগ, ঘরবাড়ি ভাঙার আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের কোনও রকম নোটিশ বা সতর্কতা জারি করা হয়নি। আকস্মিক এই পদক্ষেপে বহু পরিবারকে জোর করে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। বাসিন্দাদের অনেকেরই দাবি, তাঁরা বিগত ২০ থেকে ২৫ বছর ধরে ওই নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে আসছেন। এই ঘরগুলিই ছিল তাঁদের একমাত্র সম্বল ও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়। হঠাৎ করে মাথা ওপর থেকে ছাদ সরে যাওয়ায় তাঁরা এখন দিশাহারা। এছাড়া, পর্যাপ্ত পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত না করে এভাবে উচ্ছেদ করায় মানবিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। মঙ্গলবার সকাল থেকেই এই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে শিলিগুড়ির সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষজন রাস্তায় নেমে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। তবে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিপুল পরিমাণ পুলিশ বাহিনী। প্রশাসনের তৎপরতা ও কড়া নিরাপত্তার কারণে পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ করে প্রশাসন আদালতের নির্দেশ পালনের ওপর জোর দিলেও, স্থানীয়দের পুনর্বাসনের বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। অন্যদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির একটাই দাবি দীর্ঘদিনের বসবাসের কথা বিবেচনা করে প্রশাসন যেন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিষয়টি দেখে এবং অবিলম্বে তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik