ফাইটার কমব্যাট লিডার হয়ে ইতিহাস গড়লেন বিহারের ভাবনা
নয়া দিল্লি: ইতিহাস গড়লেন বিহারের ভাবনা কান্থা। দেশের প্রথম মহিলা হিসেবে বায়ুসেনার ফাইটার কমব্যাট লিডার বা ‘টপ গান’ হলেন তিনি। ভারতীয় বায়ুসেনায় সূচনা হল নতুন অধ্যায়ের। বায়ুসেনার মাত্র ১ শতাংশ পাইলট এই এলিট কোর্সের জন্য নির্বাচিত হন। এরজন্য চলতি বছরের আগস্টে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রের ‘ট্যাকটিক্স অ্যান্ড এয়ার কমব্যাট ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট’ থেকে অত্যন্ত কঠিন ২০ সপ্তাহের প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে ভাবনাকে। ঘরের মেয়ের এই সাফল্যে উৎসবের আমেজ দারভাঙা জেলার বাউর গ্রামে। জন্ম ১৯৯২ সালে। ছোট থেকেই আকাশে ওড়ার স্বপ্ন দেখতেন ভাবনা। তখন থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার চিন্তাভাবনার শুরু। কারণ, তিনি মনে করেছিলেন সেনাবাহিনীতে নাম লেখালে বিমান ওড়াতে পারবেন। কিন্তু অ্যাকাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর জানতে পারেন, মহিলাদের বায়ুসেনার ফাইটার বিভাগে অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। কিন্তু ২০১৬ সালে সেই নিয়মে আনা হয় বদল। মোহনা সিং এবং অবনী চতুর্বেদীর সঙ্গে ভাবনাও সুযোগ পেলেন ফাইটার পাইলট হিসেবে বায়ুসেনায় যোগ দেওয়ার। এবার বায়ুসেনার ফাইটার কমব্যাট লিডারের শিরোপা উঠল তাঁর মাথায়।
২০১৮ সালে আম্বালা থেকে মিগ-২১ বাইসনে প্রথম একক উড়ানের অভিজ্ঞতা লাভ করেন ভাবনা। এরপর ২০১৯-এ দিনের বেলায় কমব্যাট মিশনের জন্য ছাড়পত্র পান। এক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা। ২০২১ সালে তিনি ভারতের প্রথম মহিলা ফাইটার পাইলট হিসেবে প্রজাতন্ত্র দিবসের প্যারেডে অংশ নেন। ২০২৪ সালের ফ্লাইপাস্টেও যুক্ত ছিলেন। এখন তিনি উড়াচ্ছেন ফ্রন্টলাইন যুদ্ধবিমান সুখোই-৩০। এরমধ্যেই সাহস ও একাগ্রতা স্বীকৃতিতে ২০২০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি রাম নাথ কোবিন্দ ভাবনার হাতে তুলে দেন নারী শক্তি সম্মান। এরপরই ভাবনাকে পুরস্কৃত করেন বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিং।
ভাবনার বাবা তেজ নারায়ণ কান্থার স্বপ্ন ছিল পাইলট হওয়ার। কিন্তু সেই ইচ্ছে পূরণ হয়নি তাঁর। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের ইঞ্জিনিয়ার তেজ নারায়ণ তাই চেয়েছিলেন মেয়ের মধ্য দিয়ে নিজের স্বপ্নের সফলতা দেখতে। ইতিহাসে নাম লেখানোর পাশাপাশি বাবার স্বপ্নও পূরণ করলেন ৩৩ বছর বয়সী ভাবনা।
