বাগুইআটিতে শয্যাশায়ী যুবককে খুন, ডাকাতির ছক সাজিয়েও গ্রেপ্তার নিজের দাদা
সংবাদাদাতা, কলকাতা: বাগুইআটিতে মৃত যুবকের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। রঘুনাথপুরের বাসিন্দা বলরাম রাজবংশীর মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে গ্রেপ্তার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের চিকিৎসার বিপুল খরচ এবং সম্পত্তি নিয়ে বিবাদের জেরে শয্যাশায়ী ভাইকে কুপিয়ে ও থেঁতলে খুন করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কৃষ্ণ নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। সোমবার ধৃতকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়।
রবিবার ভরদুপুরে রঘুনাথপুরের বাড়ি থেকে বলরামের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর কপালে একাধিক গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার সময় বাড়িতে তাঁর বাবা-মা কেউই ছিলেন না। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা নাগাদ সকলে কাজে বেরিয়ে যান। দুপুরে মা বাড়ি ফিরে দেখেন, গেটে তালা ঝুলছে। ভিতরে ঢুকে তিনি দেখেন ঘর লন্ডভন্ড, আলমারি খোলা, আর বিছানায় পড়ে রয়েছে ছেলের নিথর দেহ। পরিবারের দাবি ছিল, বাড়ি থেকে প্রায় ২ লক্ষ টাকা নগদ ও সোনার গয়না চুরি গিয়েছে। প্রতিবেশীরা যাতে কিছু টের না পান, সে জন্য পোষ্য কুকুরটিকে পাশের ঘরে আটকে রাখা হয়েছিল বলেও জানা যায়।
প্রথম দর্শনে ঘটনাটিকে ডাকাতি বা লুটপাটের উদ্দেশ্যে খুন বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে নেমে বাড়ির তালা নিয়েই ধোঁয়াশায় পড়েন তদন্তকারীরা। দুষ্কৃতীরা গেট খুলে ঢুকে খুন করার পর আবার মূল ফটকে তালা দিয়ে বেরিয়ে যাবে, এটা তাঁদের স্বাভাবিক মনে হয়নি। পুলিশের ধারণা হয়, পরিচিত কেউ অথবা যাঁদের কাছে বাড়ির চাবি থাকে, তাঁদেরই কেউ এই ঘটনায় জড়িত।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা গিয়েছে, ভাই দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকায় তাঁর চিকিৎসায় পরিবারের প্রচুর টাকা খরচ হচ্ছিল। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের মধ্যে সম্পত্তি নিয়েও বিবাদ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, চিকিৎসার খরচের চাপ এবং সম্পত্তি দখলের লোভেই দাদা খুনের পরিকল্পনা করেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরও তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহে জোর দিচ্ছে পুলিশ।
