যন্তর-মন্তরে আপ সমর্থকদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি পুলিশের, বিকেলে পথে নামছে ককরোচরা, সতর্ক প্রশাসন
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল নয়াদিল্লি। সকাল থেকেই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি রাজধানীতে। রাস্তাঘাটের দখল নেয় পুলিশ, বন্ধ করা হয় একাধিক মেট্রো স্টেশন। বেলা বাড়তেই আপ সমর্থকরা যন্তর মন্তরে ভিড় জমায়। জমায়েত ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ, কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে শুরু হয় ধস্তাধস্তি। অভিযোগ, আপ-এর সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজকে চ্যাংদোলা করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। মহিলাদের সঙ্গেও সংঘর্ষ বাধে।
বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন সামলাতে সকাল থেকেই কড়া অবস্থানে ছিল দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর-সহ গোটা নয়া দিল্লিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা (আগের ১৪৪ ধারা) জারি করে সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়। রাস্তায় মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা দমন শাখার পুলিশ ও বিশেষ বাহিনী। সকাল সাতটা থেকেই দিল্লি পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেয়। ওই স্টেশনগুলিতে ট্রেন দাঁড়ায়নি। ফলে যাত্রীদের ঢোকা-বেরোনোর পথও বন্ধ। বন্ধ স্টেশনের মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, কেন্দ্রীয় সচিবালয়, প্যাটেল চক, জনপথ ও মান্ডি হাউস। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে বিপুল সংখ্যায় পুলিশ নামানো হয়েছে, একাধিক জায়গায় বসেছে ব্যারিকেড। যান চলাচলেও ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেই সকালে আপ-এর কর্মী-সমর্থকরা জমায়েত শুরু করলে পুলিশ তাঁদের নিষেধ করে। পরে ভিড় বাড়তে থাকলে তাঁদের সরানোর চেষ্টা হয়। শুরু হয় বচসা ও তর্কাতর্কি, তারপর পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হতে থাকে।
वोट चोरी के खिलाफ शांतिपूर्ण प्रदर्शन कर रहीं दिल्ली विधानसभा में नेता प्रतिपक्ष @AtishiAAP जी को दिल्ली पुलिस ने गिरफ्तार कर लिया।
प्रधानमंत्री मोदी जी, यह देश तानाशाही से नहीं चलेगा। वोट चोर ज्ञानेश कुमार को इस्तीफ़ा देना पड़ेगा। pic.twitter.com/wHVswH1DHc
— AAP (@AamAadmiParty) October 2, 2026
শুক্রবার বিকেলে দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির। গান্ধী জয়ন্তীতে যন্তর মন্তরে এই আন্দোলনের সূচনা হওয়ার কথা। ছাত্র সংগঠন আইসা, রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণের ডাকে এই জমায়েত হওয়ার কথা ছিল। কর্মসূচি নিয়ে প্রস্তুতির মাঝে সকাল থেকে রটে যায় ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকেকে পুলিশ আটক করেছে। তবে সিজেপির সহ আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কা জানিয়েছেন অভিজিৎকে আটক করার খবর ঠিক নয়। এদিন মুম্বইতেও বড় জমায়েতের ডাক দিয়েছে সিজেপি। শিবাজী পার্কে বিকালের সমাবেশে ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ উপস্থিত থাকবেন। মুম্বই পুলিশ ওই সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়ণবিশ বলেছেন শিবাজী পার্কে আমরাও সমাবেশ করতে পারি। এসআইআর নিয়ে আমরা আমাদের বক্তব্য বলব।
এদিকে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে জমায়েতের অনুমতি দেয়নি পুলিশ। তবু জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবিতে বিপুল সংখ্যায় মানুষ পথে নামতে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে। সেই আশঙ্কায় আগেভাগেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শচীন শর্মা সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট লিখে জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে কোনও ধরনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নয়া দিল্লি জুড়ে ১৬৩ ধারা বলবৎ আছে। তিনি জানিয়েছেন পুলিশের পদক্ষেপগুলি মাথায় রেখে যাতে রাস্তায় জমায়েত করে মানুষ। ওই ধারা অনুযায়ী রাস্তায় বা যে কোনও স্থানে পাঁচজনের বেশি ব্যক্তিকে একসঙ্গে দেখা গেলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করতে পারবে।
