রেলের উচ্ছেদ নোটিশ ঘিরে উত্তেজনা শিলিগুড়ি রেলওয়ে জংশন এলাকায়

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রেলের উচ্ছেদ নোটিশ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল শিলিগুড়ি রেলওয়ে জংশন এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে রেলের জমিতে ব্যবসা করে সংসার চালানো প্রায় ২০০জন দোকানদারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এনএফ রেলের কাটিহার ডিভিশনের তরফে জারি করা নোটিশে আগামী ১৫দিনের মধ্যে দোকান সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দোকান না সরালে নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। রেলের দাবি,সংশ্লিষ্ট দোকানদাররা রেলের জমি দখল করে ব্যবসা চালাচ্ছেন।রেলের জমি দখলমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই নোটিশ জারি করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি জংশন এলাকার ছোট-বড় দোকানদার, চায়ের দোকানের মালিক এবং ঠেলা ব্যবসায়ীরা নিজেদের ব্যবসা বন্ধ রেখে প্রতিবাদে শামিল হন।ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এই ব্যবসার ওপর নির্ভর করেই তাঁদের সংসার চলে। হঠাৎ করে দোকান সরিয়ে দেওয়া হলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নন,তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়বেন। তাই উচ্ছেদের আগে বিকল্প জায়গা এবং উপযুক্ত পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। দোকানদারদের স্পষ্ট বক্তব্য, রেলের উন্নয়নমূলক কাজের বিরোধিতা তাঁদের উদ্দেশ্য নয়।তবে উন্নয়নের স্বার্থে দোকান সরাতে হলে তার আগে ব্যবসায়ীদের জীবিকা সুরক্ষিত করতে হবে। তাঁদের দাবি, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে উচ্ছেদ করা হলে প্রায় ২০০টি পরিবারের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। এই সমস্যা নিয়ে কাটিহার ডিভিশনের ডিআরএমের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তাঁরা। এবার বিষয়টি স্থানীয় বিধায়ক ও মন্ত্রীর কাছেও তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপেরও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।রেলের নোটিশের পর আপাতত নিজেদের ব্যবসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে দিন কাটছে শিলিগুড়ি জংশনের ব্যবসায়ীদের।পুনর্বাসনের দাবিতে আগামী দিনে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা।
