আর্থিক প্রতারণায় গ্রাহক সর্বস্বান্ত হলে, ক্ষতিপূরণ দেবে ব্যাঙ্ক, এমনই নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: সারাজীবনের সঞ্চয় এক ফোনকলেই শেষ। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার খবর এখন প্রায় নিত্যদিনের। এবার এই ধরনের সাইবার প্রতারণা নিয়ে ব্যাঙ্কগুলোকেই কাঠগড়ায় তুলল দেশের শীর্ষ আদালত। ব্যাঙ্কের গাফিলতি হলে, গ্রাহককে ক্ষতিপূরণ দেবে ব্যাঙ্ক। জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সাম্প্রতিক অতীতে প্রতারণার ধরন বদলেছে বহুবার। কখনও পরিচিত বিভিন্ন অ্যাপের আড়ালে চলছে প্রতারণা চক্র, কখনও বা ভুয়ো কলে ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে জালিয়াতরা। শিকারদের বড় অংশই বয়স্ক মানুষ। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানির সময় উঠে আসে এই প্রসঙ্গ। সেখানেই প্রধান বিচারপতির সোজা প্রশ্ন, ব্যাঙ্কগুলি কেন এই প্রতারণা রুখতে পারছে না? তিনি আরও জানতে চান, একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে অবিশ্বাস্য অঙ্কের টাকা বেরিয়ে যেতে ব্যাঙ্ক যখন নিজের চোখে দেখছে, তখনই কেন জালিয়াতি আটকানোর ব্যবস্থা হচ্ছে না?
আদালতের এই মন্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত, শুধু প্রতারকদের ধরলেই হবে না, নজরদারির ব্যবস্থাতেও দায় রয়েছে ব্যাঙ্কের। এখানেই শেষ নয়। ব্যাঙ্কগুলিকে উদ্দেশ্য করে প্রধান বিচারপতি জানান, রক্ষাকবচ হিসাবে কাজ করতে হবে। যেসব গ্রাহক তুলনামূলকভাবে প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রে দুর্বল, তাঁদের রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকেই। ডিজিটাল অ্যারেস্টের শিকার হয়ে যারা টাকা খোয়াচ্ছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ব্যাঙ্কগুলিকে। ব্যাঙ্কগুলিকেই টাকা তুলে দিতে হবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত। তবে শর্ত বেঁধে দেওয়া হয়েছে। যদি ব্যাঙ্কের তরফে নজরদারির গাফিলতি প্রমাণিত হয়, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেবে ব্যাঙ্ক।এই নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি অবশ্য আমজনতাকে মৃদ তিরস্কারও করেছেন প্রধান বিচারপতি। প্রধান বিচারপতি এদিন এই ঘটনায় হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, শিক্ষিত ব্যক্তিরাও যদি এইভাবে ফাঁদে পা দেন তাহলে সেটা খুবই হতাশাজনক। এদিন শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি। তিনি জানান, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের সঙ্গে ইতিমধ্যেই এই নিয়ে আলোচনা করছে ব্যাঙ্কগুলি।
