বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

মোহভঙ্গ!‌ নওসাদের হাত ছাড়লেন আরাবুল

21 August, 2026 4:09 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ আইএসএফ ছাড়লেন আরাবুল ইসলাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে নওশাদ সিদ্দিকির দলকে ‘‌স্বৈরাচার’‌ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। লিখেছেন, আইএসএফ–এর লুম্পেন বাহিনীর হাতে ভাঙড় জুড়ে যেভাবে অত্যাচার–অনাচার নেমে এসেছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আমি এই দল থেকে পদত্যাগ করলাম।’‌ অন্য আরেকটি পোস্টে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে লিখেছেন, ‘‌আইএসএফ–এর স্বৈরাচার ও একনায়কতন্ত্রকে আমি ধিক্কার জানাই।’‌
মাত্র কয়েক মাসের আগের ঘটনা। বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে হাত ধরেছিলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট বা আইএসএফ–এর। সে সময়ও সামাজিক মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানিয়েছিলেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘‌আজ থেকে আমি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করলাম। নতুন জীবন শুরু করছি। বহিষ্কার তো আগেও করেছে দল। এখন দল আরাবুল ইসলামকে চেনে না। ৫ বার আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে। ৩ বার দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’‌ এরপর নওসাদ সিদ্দিকির দলে যোগদান করেই সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘‌ভাঙড়ে একজন কুখ্যাতকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অত্যাচারী, তোলাবাজ ব্যক্তিকে মমতা ব্যানার্জি মাথায় তুলেছেন। ভাঙড়ে সন্ত্রাসের কারিগর শওকত মোল্লা। ভাঙড়ে শান্তি ফেরানো দরকার। ওখানে নওশাদ ভাই আছেন। তিনি যেভাবে বলবেন, আমি সেই মতো কাজ করব। আমি কয়েক মাস ধরে আইএসএফ–এর সঙ্গে যোগাযোগ করছিলাম। ধীরে ধীরে নানা ধাপ পেরিয়ে আজ এই দলে যোগদান করলাম।’‌
এত কিছুর পরেও ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির পদে থেকে গিয়েছিলেন আরাবুল। ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামকে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও করেছিল আব্বাস এবং নওশাদ সিদ্দিকির দল অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট। যদিও সেই আসন থেকে জয় ছিনিয়ে আনতে পারেননি আরাবুল। এদিকে ভোটের পরেই নওসাদের দল ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে অনাস্থার জন্য কোমর বাঁধতে শুরু করে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভাঙড় ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের বিপুল জয়ের প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন আরাবুল। সে সময় আইএসএফ মাত্র ৫টি আসন দখল করতে পেরেছিল। সেই পঞ্চায়েত সমিতিতে আইএসএফ–এর ৫ সদস্যের সঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে আসা কয়েকজন সদস্যও যোগ দিয়ে অনাস্থা ঘোষণা করেন। যার জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ১৩ আগস্ট আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আনা অনাস্থা প্রস্তাবে স্থগিতাদেশ দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। সেই সময় থেকেই মোটামুটি বোঝা যাচ্ছিল যে, আইএসএফের সঙ্গে ‘‌তাজা নেতা’‌ আরাবুলের সম্পর্ক আর ততটা মধুর নেই।
আইএসএফ ছাড়ার কথা জানালেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি আরাবুল ইসলাম। এবার কি তিনি নতুন কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেবেন?‌ নাকি ফিরবেন তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে?‌ এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।

এদিকে দলত্যাগের ঘোষণা করার পরই আরাবুল ইসলামকে নজিরবিহীন ভাষায় বিঁধলেন  ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি। এক বিশেষ প্রজাতির প্রাণীর মুখে ঠুলি পরানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, মুখে জাল বাঁধলেও জঞ্জালেই মুখ দেয় কিছু প্রাণী! আরাবুলকে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে নওসাদ বলেন, ‘যখন ওঁকে নেওয়া হয়েছিল, তখনই আমি বলেছিলাম— তাঁকে শুধরাবার জন্য একটা সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik