তিন পশ্চিমী পরাশক্তি, এশিয়ায় ইস্টবেঙ্গলের নতুন অগ্নিপরীক্ষা
নিজস্ব প্রতিবেদন : এক দশকের লম্বা অন্ধকার ছিঁড়ে অবশেষে এশিয়ার মূল মঞ্চে সূর্য উঠেছে লাল-হলুদের।
২০১৫ সালের পর ফের এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টু-র গ্রুপ পর্বে কলকাতার এই শতবর্ষী ক্লাব। প্রিলিমিনারি রাউন্ডে কুয়েতের আল আরাবিকে অতিরিক্ত সময়ে ৪-১ ব্যবধানে চুরমার করে মূল পর্বের টিকিট ছিনিয়ে এনেছিল ইস্টবেঙ্গল। জয় গুপ্তার শেষ মুহূর্তের কামড় আর অতিরিক্ত সময়ে রশিদ, ডেভিড ও রোহিত দানুদের গোলক্ষুধা বুঝিয়ে দিয়েছিল—লাল-হলুদের গর্জন এখনো থমকে যায়নি। কিন্তু সেই রোমাঞ্চকর রাত এখন অতীত, আসল লড়াই শুরু হচ্ছে এবার।
ইস্টবেঙ্গলের জন্য গ্রুপ ‘ডি’-তে অপেক্ষা করছে পশ্চিম এশিয়ার তিন ফুটবল পরাশক্তি—জর্ডনের আল হুসেইন, ইরাকের আল শোর্তা এবং ওমানের আল সিব। এ কোনো সহজ পথ নয়। গতি, শারীরিক জোর আর আধুনিক ফুটবলের রণক্ষেত্রে ইস্টবেঙ্গল ও হেড কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ম্যাচ স্ট্র্যাটেজির বড় পরীক্ষাও বটে।
প্রথম ম্যাচেই নামতে হবে জর্ডনের ঘরোয়া চ্যাম্পিয়ন আল হুসেইনের ডেরায়। গত মরশুমে লিগে ৭০টি গোল করে মাত্র ১৭টি হজম করা দলটি নিজেদের মাঠে অত্যন্ত আগ্রাসী। দলে রয়েছে জর্ডন জাতীয় দলের একঝাঁক অভিজ্ঞ ফুটবলার। অন্যদিকে বাগদাদের শক্তি আল শোর্তা পরিচিত তাদের ফিজিক্যাল প্রেসিং ও ক্ষুরধার আক্রমণের জন্য। গত মরশুমের সর্বোচ্চ গোলদাতা লিওনেল আতেবাকে সামলানো ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের জন্য হবে মূল চ্যালেঞ্জ। আর ওমানের আল সিবকে হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই—২৬ ম্যাচে ২১টি জয় তুলে নেওয়া এই দলটি গ্রুপ পর্বের বিপজ্জনক ‘ডার্ক হর্স’।
সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে হোম ও অ্যাওয়ে মিলিয়ে ছয়টি চাল চালতে হবে ইস্টবেঙ্গলকে। নক-আউটের টিকিট মিলবে কেবল গ্রুপের সেরা দুই দলের। পশ্চিম এশিয়ার মাঠে গিয়ে পয়েন্ট ছিনিয়ে আনা যতই কঠিন হোক, যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে নিজেদের তিনটি হোম ম্যাচ থেকে পুরো পয়েন্ট তোলাই হবে হাবাস ব্রিগেডের মূল চাবিকাঠি।
এক ম্যাচের লড়াইয়ে অঘটন ঘটানো যায়, কিন্তু এশিয়ার মঞ্চে রাজত্ব করতে গেলে ছয়টি ম্যাচেই ধারাবাহিকতা দেখাতে হয়। স্কোয়াডের মানসিকতা ও কোচের ট্যাকটিকাল মাস্টারপ্ল্যানই ঠিক করে দেবে—এই অভিযান কি নতুন কোনো এশীয় রূপকথার জন্ম দেবে, নাকি মরুঝড়ের সামনে গিয়ে থামবে লাল-হলুদের জয়রথ।
