বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

মন কেড়েছেন পাকিস্তানের নতুন মিস ইউনিভার্স! কে এই মনস্তত্ত্বের ছাত্রী মিসবাহ আরশাদ?

21 August, 2026 2:53 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

লাহোর: সৌন্দর্য, বুদ্ধিমত্তা এবং আত্মবিশ্বাসের এক অনন্য মেলবন্ধন দেখা গেল পাকিস্তান গ্ল্যামার জগতে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান’ (Miss Universe Pakistan 2026)-এর মুকুট নিজের মাথায় তুললেন লাহোরের তরুণী মিসবাহ আরশাদ (Misbah Arshad)। পেশায় মডেল এবং মনস্তত্ত্বের (Psychology) এই মেধাবী ছাত্রী কেবল নিজের রূপে বিশ্বমঞ্চ জয় করতে প্রস্তুত নন, তাঁর ঝুলিতে রয়েছে স্পষ্ট সামাজিক বার্তাও। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার রাজকীয় মঞ্চ পেরিয়ে এবার আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পাকিস্তানের মুখ হতে চলেছেন এই বঙ্গললনা-তুল্য সৌন্দর্য প্রতিমা।

গ্ল্যামার দুনিয়ায় পরিচিত মুখ হলেও, এবার মিসবাহর সামনে এক বিরাট দায়িত্ব। আগামী ২৪ নভেম্বর, ২০২৬ সালে পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ানে আয়োজিত হতে চলেছে ৭৫তম ‘মিস ইউনিভার্স’ প্রতিযোগিতা। এই হীরক জয়ন্তী (Diamond Anniversary) বর্ষে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন মিসবাহ। ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান’ কর্তৃপক্ষ নিজেদের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই সাফল্যের কথা শেয়ার করে লিখেছেন, “আমাদের নতুন মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬ হলেন মিসবাহ আরশাদ। নিজের লালিত্য, সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সঙ্গে নিয়ে মিসবাহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করার সম্মানজনক দায়িত্ব গ্রহণ করছেন।”

কে এই মিসবাহ আরশাদ? রূপের পাশাপাশি যেখানে মেধার জয়গান

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার বিজয়ী হলেও মিসবাহর মূল পরিচয় কেবল গ্ল্যামারের আলোতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল মনস্তত্ত্বের ছাত্রী। পাশাপাশি নিয়মিত ফ্যাশন, লাইফস্টাইল এবং বিউটি ফিল্ডে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে কাজ করেন। ছবি দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, ভ্রমণ করতেও ভালোবাসেন তিনি। প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানো, নতুন কালচার এক্সপ্লোর করা এবং বিভিন্ন প্রান্তের খাবার চেখে দেখা তাঁর অন্যতম প্রিয় শখ।

তবে রূপের পেছনে লুকিয়ে থাকা সংবেদনশীল মনটি বারবার প্রকাশ পেয়েছে তাঁর সমাজসেবামূলক কাজে। বিশেষ করে নারীশিক্ষাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সরব। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে লাহোরের একটি স্থানীয় স্কুলে গিয়ে খুদে ছাত্রীদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মিসবাহ লেখেন, “স্কুলে গিয়ে অসাধারণ কিছু মেয়ের সঙ্গে দেখা করার পর এবং বিভিন্ন সংস্থাকে পাকিস্তানের উন্নয়ন নিয়ে কাজ করতে দেখে একটা বিষয় স্পষ্ট বুঝেছি—মেয়েদের শিক্ষায় বিনিয়োগ করাই হলো আমাদের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় শক্তি।”

সৌন্দর্যের মঞ্চে মিসবাহ অবশ্য নতুন নন। এর আগেও একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় নজর কেড়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে জাপানে আয়োজিত ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল’ (Miss International 2023) মঞ্চেও তিনি পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের পরিণতিই আজকের এই সাফল্য।

মুকুট জয়ের পর আবেগঘন বার্তা: ‘ব্যর্থতা জীবনের শেষ কথা নয়’

বিজয়ের মুকুট মাথায় ওঠার পর নিজের ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন এক দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেছেন মিসবাহ। নিজের স্বপ্নের এই সফর নিয়ে তিনি জানান, “গত কয়েক বছরে একটা বড় জিনিস শিখেছি—ব্যর্থতা কখনো নির্ধারণ করতে পারে না যে তুমি বিজয়ী নাকি বিজিত। আসল বিষয় হলো মনের আশা বাঁচিয়ে রাখা, প্রতিনিয়ত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া এবং প্রতি পদক্ষেপে নিজেকে আরও উন্নত করে তোলা।”

ফাইনাল নাইটে তাঁর পরনে ছিল একটি অপূর্ব সাদা ও নীল রঙের গাউন। পোশাকটির পেছনের গভীর ভাবনার কথা জানিয়ে মিসবাহ বলেন, এই সাদা রং আসলে আশা ও স্বপ্নের প্রতীক, যা মনে করিয়ে দেয় নিজের স্বপ্নের ওপর বিশ্বাস না হারানোর বার্তা। অন্যদিকে, গাউনে থাকা রয়্যাল ব্লু ক্রিস্টালগুলো শিক্ষা এবং জ্ঞানের প্রতীক, যা জীবনজুড়ে আমরা আয়ত্ত করি।

তিনি আরও লেখেন, “অনেক সময় জেতার পর বোঝা যায়, এই পুরো যাত্রাটাই ছিল আসল পুরস্কার। আবেগের ওঠানামা, প্রতিদিনের কঠিন পরিশ্রম, নতুন শিক্ষা এবং অসাধারণ সব মানুষের সঙ্গে আলাপ—সব মিলিয়ে জীবনের অনুভূতিগুলোকে গভীর করে তোলে।”

ভিয়েতনামি ডিজাইনারের গাউন ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন

গ্র্যান্ড ফাইনালে মিসবাহর পরনে থাকা গাউনটি পোশাকপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। একটি এমব্রয়ডারি করা ফিটেড করসেট এবং সাদা রঙের ফ্লেয়ার্ড স্কার্টের সেই গাউনটি ডিজাইন করেছিলেন বিখ্যাত ভিয়েতনামি ডিজাইনার নুয়েন তিয়েন ট্রুয়েন (Nguyen Tien Truyen)। মিসবাহর জয়ের পর তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “তোমার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সন্ধ্যার গাউনটি ডিজাইন করতে পেরে আমি অত্যন্ত সম্মানিত। এই পোশাকটিতে ঐতিহ্যবাহী পাকিস্তানি নকশা এবং সংস্কৃতির নান্দনিকতাকে আধুনিক কুচুর (Couture) ফ্যাশন ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।”

রূপের আলো ছড়িয়ে, সাহসের ডানা মেলে এখন সান জুয়ানের রাজকীয় মঞ্চে পা রাখার অপেক্ষায় পাকিস্তানের এই সুন্দরী। মিসবাহর এই রূপ আর মেধার অনন্য জুড়ি বিশ্বমঞ্চে কতটা দাগ কাটতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে সারা বিশ্বের ফ্যাশনপ্রেমীরা।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee