তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় বিশ্বজয়, কলকাতার অশোক সেন পেলেন ‘অস্কার ক্লেইন’ পদক

কলকাতা : স্টিফেন হকিং, পিটার হিগস, হান্স বেথ, স্টিভেন ওয়েনবার্গ, সিএন ইয়াং, টিডি লি, এডওয়ার্ড উইটেন, ডেভিড গ্রস, কিপ থর্ন, অ্যালান গুথ এবং জেরার্ড ট হুফের মতো বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের উত্তরসুরী হলেন বাঙালি বিজ্ঞানী অশোক সেন। তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে অস্কার ক্লেইন পদক পেলেন তিনি। অতীতে এই পদক পেয়েছিলেন হকিং, হিগস প্রমুখ। স্ট্রিং তত্ত্বের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি রয়েছে অশোক সেনের। টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চের অধীন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর থিয়োরেটিক্যাল সায়েন্সেসে কর্মরত এই বিজ্ঞানী পেলেন অস্কার ক্লেইন পদক। বিরল এই সম্মান প্রাপ্তির কথা জানিয়েছেন সংস্থার অধিকর্তা রাজেশ গোপকুমার। বলেছেন, আগে যে সব বিখ্যাতরা এই সম্মান পেয়েছেন, তাঁদের নামের তালিকায় বুঝিয়ে দেয় এই পুরস্কার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। গোটা দুনিয়ার পদার্থবিদদের মধ্যে বাংলার তথা ভারতের অশোর সেনের অবস্থানের যথাযথ স্বীকৃতি এই সম্মান প্রাপ্তি।
সুইডিশ পদার্থবিদ অস্কার ক্লেইনের নামে ১৯৮৮ সাল থেকে শুরু হয় অস্কার ক্লেইন পদক প্রদান। যৌথভাবে এই পুরস্কার প্রদান করে স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের নোবেল কমিটি ফর ফিজিক্স। চলতি মাসেই স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবানোভা কেন্দ্রে ‘গ্র্যাভিটি ফ্রম স্ট্রিংস অ্যান্ড স্ট্রিংস ফ্রম গ্র্যাভিটি’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী অশোক সেন।
এ পর্যন্ত মোট ৩৮ জন বিজ্ঞানী এই সম্মান পেয়েছেন। চল্লিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে স্ট্রিং থিয়োরি নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতিতে এই সম্মান পেলেন অশোক সেন। এই প্রথম কোনও ভারতীয় পদার্থবিদের হাতে উঠছে এই পদক। স্ট্রিং থিয়োরি, কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপি এবং স্ট্রিং ফিল্ড থিয়োরি নিয়ে তাঁর দীর্ঘ গবেষণা আধুনিক তাত্ত্বিক পদার্থবিদ্যার গতিপথ বদলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
‘এস–ডুয়ালিটি’ নিয়ে গবেষণা স্ট্রিং থিয়োরিতে অশোক সেনের উল্লেখযোগ্য অবদান। এছাড়াও অস্থিতিশীল ডি-ব্রেন নিয়ে গবেষণা, ওপেন স্ট্রিং ট্যাকিয়ন ঘনীভবন সংক্রান্ত তাঁর অনুমান এবং কৃষ্ণগহ্বরের এনট্রপি নির্ণয়ে তাঁর অবদানও অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য।
১৯৮৯ সালে আইসিটিপি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন বিজ্ঞানী অশোক সেন। ১৯৯৪ সালে পান শান্তিস্বরূপ ভাটনগর পুরস্কার, পদ্মশ্রী সম্মান পেয়েছিলেন ২০০১ সালে, এরপর ২০০৯ সালে ইনফোসিস পুরস্কার পান তিনি। ২০১২ সালে ব্রেকথ্রু প্রাইজ ইন ফান্ডামেন্টাল ফিজিক্সের প্রথম প্রাপকদের মধ্যে ছিল অশোক সেনের নাম। ২০১৩ সালে পদ্মভূষণ এবং ২০১৪ সালে ডিরাক পদকে সম্মানিত। এবার পেলেন অস্কার ক্লেইন–এর মতো বিরল সম্মানের শিরোপা।
