দানবীয় ঢেউয়ে ভেসে গেল ঘরবাড়ি, মানুষজন, তাইওয়ান উপকূলে তাণ্ডব দেখালো টাইফুন চাম্পি

তাইওয়ান: টাইফুন চাম্পির দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত তাইওয়ান উপকূল। কোথাও ৬ মিটারের বেশি উঁচুতে উঠল ঢেউ। আবার কোথাও বা ২০০ কিমিরও বেশি গতিতে বইল ঝড়! প্রবল ঝড় এবং মারাত্মক বৃষ্টির দাপটে মারা গেলেন বেশ কয়েকজন। আহত হয়েছেন অসংখ্য। ভেঙে পড়েছে বহু ঘরবাড়ি। বিমান, রেল পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ। শুক্রবার ১ হাজারেরও বেশি বিমান বাতিল হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে অফিস এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্দিষ্ট করে কিছু দজাজানো হয়নি। তবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলির খবরে জানা গেছে, আহতের তালিকায় রয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫০০ জন। মৃতের সংখ্যা এখনও নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। ভয়াবহ এই টাইফুন সবচেয়ে ভয়াল রূপ ধারণ করেছিল তাইওয়ানের উত্তর ও উত্তর–পূর্ব উপকূলে। সমুদ্রের দানবাকার ঢেউ রাস্তায় উঠে এসে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা ভাসিয়ে নিয়ে যায়। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, যানবাহন, দোকানপাট। জানা গেছে, তাইতুং কাউন্টির ফুগাং ফিশিং হারবারে বিরাট ঢেউয়ের ধাক্কায় একটি বিরাট ক্রেন সমুদ্রে পড়ে গিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা World Meteorological Organization (WMO) আগেই সতর্কবার্তা জারি করে জানিয়েছিল যে, বিশ্বজুড়ে ধ্বংসাত্মক চেহারায় দেখা দেবে এল নিনো। যা বয়ে আনবে মারাত্মক টাইফুন, সাইক্লোন। হারিকেনের মত ঝড়। সংস্থার সম্পাদক জেনারেল সেলেস্তে সাওলো জানিয়েছেন, এল নিনোর প্রভাবে প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা ৩.৮ ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। সেটা হলে বিশ্বের আবহাওয়ায় মারাত্মক প্রভাব পড়বে।
সংস্থার গবেষণা রিপোর্টে উঠে এসেছে ভয় ধরানো এক তথ্য। সেখানে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে তাণ্ডব দেখাতে পারে এল নিনো। একদিকে যেমন বাড়তে পারে গরমের তীব্রতা, অন্যদিকে তেমন ভয়াবহ ঝড়, বন্যা ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে সাজানো সভ্যতা। আবার কোথাও বা খরার ফলে দেখা দিতে পারে আনাহার, দুর্ভিক্ষ।
