বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সিটি সেন্টার ২-এর পিছনের ঝুপড়িতে আগুন অমিতাভ বচ্চনের বাসভবনের বোমাতঙ্কের হুমকি পাক জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্দারমণির সমুদ্রে তলিয়ে গেল মামা-ভাগ্নে

২০২৮ সালে দুটো দুর্গাপুজো? কী বলছেন শাস্ত্রজ্ঞরা! ছুটিও কি দুবার?

23 October, 2026 7:56 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

কলকাতা: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো ঘিরে ২০২৮ সালে তৈরি হতে চলেছে এক বিরল পরিস্থিতি। পঞ্জিকার গণনার পার্থক্যে ওই বছর ১৫ দিনের ব্যবধানে দু’বার দুর্গাপুজো হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ১৯৮০ সালের পর ফের এমন বিভ্রান্তিকর, অথচ কৌতূহলোদ্দীপক ঘটনার সাক্ষী থাকতে পারে বাংলা।

বাংলায় মূলত দু’টি মত মেনে দুর্গাপুজো হয়। একটি দৃকসিদ্ধান্ত বা বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, অন্যটি সূর্যসিদ্ধান্ত, যা গুপ্তপ্রেস বা বেণীমাধব শীলের পঞ্জিকার সূত্রে পরিচিত। বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন-সহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণ করে। অন্যদিকে রাজ্যের বেশিরভাগ পাড়া ও বারোয়ারি পুজো চলে সূর্যসিদ্ধান্ত মেনে। ২০২৮ সালের পঞ্জিকা অনুযায়ী, এই দুই মতের পুজোর নির্ঘণ্টের মধ্যে ১৫ দিনের বড় ব্যবধান থাকতে চলেছে।

ইতিহাস বলছে, ১৯৮০ সালেও পঞ্জিকার এই বিভ্রাটে দু’বার দুর্গাপুজো হয়েছিল। তবে সেবার দুই সিদ্ধান্তের মধ্যে ব্যবধান ছিল পুরো এক মাসের। এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে, এক পঞ্জিকা মতে যখন মহালয়া, অন্য মতে তখন কালীপুজো। একটি মতে মহানবমী পালিত হওয়ার সময় অন্য মতে চলছিল জগদ্ধাত্রী পুজো।

সর্বভারতীয় প্রাচ্য বিদ্যা অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী জানিয়েছেন, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত ও সূর্যসিদ্ধান্ত, দু’টি গণনাই মহাজাগতিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। তাই কোনওটিই ভুল নয়, এবং পুজো দু’বার হলেও তা নিয়ে বিতর্কের কোনও জায়গা নেই। তাঁর কথায়, আমজনতা চাইলে দু’বারই অঞ্জলি দিতে পারেন, কারণ দু’টি পুজোই পূর্ণ নিয়ম ও আচার মেনে হবে।

কী বলছেন পঞ্জিকা ব্যবসায়ীরা

পঞ্জিকা ব্যবসায়ী পূর্ণ চন্দ্র শীল জানান, বহু বছর আগে একবার বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে দুর্গাপুজো হয়েছিল কার্তিক মাসে, আর সূর্যসিদ্ধান্ত মতে আশ্বিনে। ২০২৮ সালেও তা সকলের কাছে চমকপ্রদ বিষয় হতে চলেছে। গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকার কর্ণধার অরিজিৎ রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, তাঁরা সূর্যসিদ্ধান্তই মেনে চলেন। ২০২৮-এর নির্ঘণ্ট নিয়ে চূড়ান্ত কথা বলার সময় এখনও আসেনি। তবে ২০২৭ সালের গণনায় দেখা যাচ্ছে, দুই পঞ্জিকা মতে দু’দিন অষ্টমী ও দু’দিন নবমী পড়েছে।

দু’বার পুজো হলে স্কুল-কলেজ ও সরকারি অফিসের ছুটি কবে পড়বে, সেই প্রশ্নও উঠছে। শাস্ত্রজ্ঞদের মতে, আশির দশকে এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু সূর্যসিদ্ধান্ত অনুযায়ীই ছুটি ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্যের বেশিরভাগ বারোয়ারি পুজো যেহেতু এই নিয়মেই হয়, তাই আশা করা হচ্ছে ২০২৮ সালেও আশ্বিন মাসেই পড়ুয়ারা পুজোর ছুটি পাবেন।

প্রতিবেদন

UTSAB RC