বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
চোরবাগান কাণ্ডে তদন্তে সিট, আটক ঘোষক দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ নেহা বোরা পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে বৈঠকে ইন্ডি জোট দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

তিব্বতে ভয়াল ভূমিকম্প, রিখটার স্কেলে মাত্রা ৭, মৃত কমপক্ষে ১৮, আহত বহু

23 October, 2026 10:07 AM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

লাসা:‌তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্প। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ৭। এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। আশঙ্কাজনক ১১। বৃহস্পতিবার রাত ১০–৩৩ মিনিটে আঘাত হানে এই শক্তিশালী কম্পন। তিনশোর বেশি ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে। চিনের একটি টেলিভিশন চ্যানেল এবং স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর, পাহাড়ি অঞ্চলের কম্পনের উৎসস্থলের সংলগ্ন এলাকায় মোট ৩৩৯টি বাড়ি সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে গেছে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অসংখ্য বাড়ি। দুর্যোগের জেরে আহতের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ৪৬।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল তিব্বতের নাগছু শহর থেকে প্রায় ১৯০ কিলোমিটার উত্তরপূর্বের এক পাহাড়ি এলাকা। অঞ্চলটির রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৩৯০ কিলোমিটার দূরে।
এদিকে ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)–এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় সময় রাত ৮টা ৩ মিনিট নাগাদ ৭ মাত্রার ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। অরুণাচল প্রদেশের পাণ্ডিন এলাকা থেকে প্রায় ৪৮৯ কিলোমিটার উত্তর–উত্তর–পশ্চিমে ছিল কম্পনের উৎসস্থল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৭৩ কিলোমিটার নীচে। এর কিছুক্ষণ পর, ফের ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ওই অঞ্চল। অরুণাচল প্রদেশের বাসার থেকে প্রায় ৩২৩ কিলোমিটার উত্তর–উত্তর–পশ্চিমে ছিল দ্বিতীয় কম্পনের উৎসস্থল। এনসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল মাটি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার নীচে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র কম্পন শুরু হতেই আতঙ্কে মানুষজন ছোটাছুটি করতে শুরু করেন। বেশিরভাগ মানুষই ঘর ছেড়ে রাস্তার বেরিয়ে আসেন। দোকানের শেলফে রাখা জিনিসপত্র হুড়মুড় করে নীচে পড়ে যেতেও দেখা গেছে। মুহূর্তে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়ছে বাড়িঘর।
৩০০ পুলিশকর্মী, উদ্ধারকারী দল, স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন। ধ্বংসস্তুপের নীচে এখনও অনেকে আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিন চিনের আরও একটি এলাকায় ৫.২ মাত্রার ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গিয়েছে। অরুণাচল প্রদেশের পাণ্ডিন থেকে প্রায় ৫০৫ কিলোমিটার উত্তর–উত্তর–পশ্চিমে ছিল এই কম্পনের উৎসস্থল।
এর আগে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসেও তিব্বতের গ্রামীণ এলাকা তিংশি কাউন্টিতে এক প্রাণঘাতী ভূমিকম্পে অন্তত ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। কয়েক সপ্তাহ আগেই নেপাল–তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় ১,৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেই বন্যার উৎপত্তিস্থল ছিল নেপাল–তিব্বত সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা, যা নেপালের উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলের বহু ঘরবাড়ি ভাসিয়ে নিয়ে যায়।

 

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik