অস্ট্রেলিয়াকে সুবিধা দিতেই ভারতীয় দলে ভাঙন ধরান চ্যাপেল, বিস্ফোরক দাবি ভাজ্জির

নয়াদিল্লি: গ্রেগ চ্যাপেল-পর্বকে ভারতীয় ক্রিকেটের সবচেয়ে কালো অধ্যায় বলে আখ্যা দিলেন প্রাক্তন স্পিনার হরভজন সিং। প্রখর গুপ্তের পডকাস্টে তিনি সরাসরি জানিয়েছেন, ২০০৫ সালের জুনে চ্যাপেলকে হেডকোচ করে নিয়ে আসাই ভারতীয় ক্রিকেট ম্যানেজমেন্টের সবচেয়ে খারাপ সিদ্ধান্ত। হরভজনের কথায়, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে চ্যাপেলের আচরণ ভারতীয় ক্রিকেটের জঘন্যতম অধ্যায়গুলির একটি। তাঁর অভিযোগ, চ্যাপেল দলে ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ বা বিভাজন নীতি চালু করেছিলেন। নিজে শাসকের ভূমিকায় থেকে ক্রিকেটারদের নিজেদের মধ্যে লড়িয়ে দিতেন তিনি।
ভাজ্জির আক্ষেপ, ২০০৩ সালের একদিনের বিশ্বকাপে যে দলের মধ্যে দারুণ বন্ডিং ছিল, চ্যাপেল আসার পর সেই ঐক্যবদ্ধ দলই আক্ষরিক অর্থে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তিনি জানান, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ এতটাই বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল যে সতীর্থদের মধ্যে কথাবার্তাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পডকাস্টে আরও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন হরভজন। তাঁর মতে, ড্রেসিংরুমে বিভাজনের পিছনে চ্যাপেলের সুনির্দিষ্ট ছক ছিল। প্রাক্তন স্পিনারের কথায়, “আমার মনে হয় চ্যাপেলের আসল উদ্দেশ্য অন্য ছিল। সে সময় একমাত্র ভারতীয় দলই অস্ট্রেলিয়াকে টক্কর দিতে পারত। সম্ভবত সেই কারণেই বিভেদ তৈরি করেন, যাতে আমরা একজোট হয়ে খেলতে না পারি এবং ম্যাচ হেরে যাই। বিশ্বকাপেও ঠিক এটাই হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের মতো দলের কাছে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই চরম অপমানজনকভাবে বিদায় নিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। হরভজনের মতে, চ্যাপেলের তৈরি করা সেই গভীর ফাটল ও অন্তর্দ্বন্দ্বের মাসুলই গোটা দেশকে গুনতে হয়েছে। সেই ক্ষত আজও দগদগে ঘায়ের মতো রয়ে গিয়েছে বলে মনে করেন তিনি। ভাজ্জির এই মন্তব্যে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে ফিরে এল সৌরভ-চ্যাপেল বিতর্ক। দু’দশক পেরিয়ে গেলেও ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এই অধ্যায় যে এখনও সমান স্পর্শকাতর, হরভজনের কথায় তা আরও একবার স্পষ্ট হল।
