টাকির পুবের রাজবাড়িতে উমার বিদায় ২৪ বেহারার কাঁধে চেপে

সংবাদদাতা, টাকি: চার দিনের আনন্দ শেষে থেমে গেছে ঢাকের বাদ্যি। উত্তর ২৪ পরগনার ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী টাকির ঐতিহ্যবাহী পুবের বাড়িতে বইছে বিষাদের সুর। ৩০৭ বছরের প্রাচীন এই রাজবাড়ির দুর্গোৎসবের প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে তৈরি হয়েছে আবেগঘন পরিবেশ। পূর্বপুরুষদের প্রাচীন রীতিনীতি ও পরম্পরা মেনে কৈলাসে পাড়ি দিলেন উমা। এই পরিবারের
বিজয়া দশমীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দেবীর বিদায়কালীন অনুষ্ঠান। প্রচলিত পারিবারিক প্রথা অনুযায়ী, দেবীকে নিবেদন করা হয় খাঁটি গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতীক পান্তা ভাত ও কচুশাক। এরপরে ঐতিহ্য মেনে ২৪ জন বেহারার কাঁধে চেপে সূচনা হয় উমার কৈলাসযাত্রার। সিঁদুর খেলার রাঙা আবিরে এবং ভক্তদের চোখের জলে মাখামাখি হয়ে এক অপূর্ব ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পুবের বাড়ির দুর্গোৎসব কেবল একটি পরিবারের পুজো নয়, বরং এটি অবিভক্ত বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন। বিশেষ করে ইছামতি নদীর তীরবর্তী এই অঞ্চলে প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে দুই বাংলার মানুষের অকৃত্রিম আবেগ জড়িয়ে থাকে। সীমান্ত বিভাজন থাকলেও সংস্কৃতির টান এখানে আজও অটুট।বিজয়ার বিষাদকে কাটিয়ে ভক্তদের একটাই প্রার্থনা, সমস্ত দুঃখ ও বিচ্ছেদ পেরিয়ে আগামী বছর ফের আসবেন উমা। টাকির ঠাকুরদালান ফের মুখরিত হয়ে উঠবে দেবীবন্দনায়।
