চেনা ডুয়ার্সের অচেনা গ্রাম গাহুনবাড়ি
নিজস্ব প্রতিনিধি : পুজোর ছুটিতে হাতে ছুটি মাত্র ৪ দিন।
তবে এই ছোট্ট ছুটিতেও ভ্রমণ প্রিয় মানুষেরা কোলাহল মুক্ত পাহাড় ঘেরা একটি শান্ত নিরিবিলি গ্রাম থেকে সহজেই ঘুরে আসতে পারেন। তবে নদী জঙ্গল পাহাড়ের মেলবন্ধনে তৈরি ডুয়ার্সে পর্যটকদের ভিড় থাকে বেশি। তাই ডুয়ার্সের ভিড় ছেড়ে নিরিবিলিতে কিছুটা সময় কাটাতে চলে যাওয়াই যায় কালিম্পং জেলার গরুবাথানের কাছে শান্ত পাহাড়ি গ্রাম গাহুনবাড়ি তে। কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য, কমলালেবুর বাগান আর চেল নদীর উৎস সব মিলিয়ে একটি সুন্দর মনোরম গ্রাম।
কালিম্পং জেলার গরুবাথান ব্লকের অন্তর্গত একটি ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ হলো গাহুনবাড়ি। যারা যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে নির্জনে প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে চান, তাদের জন্য এই গ্রামটি সেরা গন্তব্য।সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি মূলত লেপচা ও নেপালি সংস্কৃতির এক মেলবন্ধন। গাহুনবাড়ির চারপাশ ঘিরে রয়েছে সবুজ পাহাড় আর গভীর অরণ্য। এখান থেকে আকাশ পরিষ্কার থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘার এক অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।
ডুয়ার্সের সমতল থেকে পাহাড়ে ওঠার মুখে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানকার আবহাওয়া সারা বছরই মনোরম থাকে।গাহুনবাড়ির নিরিবিলি হলেও পর্যটকদের আর্ষণের বহু জিনিস রয়েছে। যারা পাহাড়ি পথে হাঁটতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য পাহাড়ি চড়াই-উতরাই পথ বেয়ে গ্রাম ঘুরে দেখা এক দারুণ অভিজ্ঞতা হতে পারে। এখান থেকে ছোট ট্রেক করে জঙ্গলের পথে অ্যাডভেঞ্চার করারও সুযোগ থাকে।
তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হল পাখিপ্রেমীদের জন্য গাহুনবাড়ি এক স্বর্গরাজ্য এখানে হরেক রকমের পাহাড়ি পাখি ও প্রজাপতির দেখা মেলে সহজেই। ডুয়ার্স মানেই হরেক রকম নদী।গাহপনবাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়, এখানেই গ্রামের খুব কাছে রয়েছে চেল নদীর উৎপত্তি স্থল। পাহাড়ি নদী এবং ঝর্ণার শব্দ আর শীতল জল পর্যটকদের ক্লান্তি দূর করে দেয়।
এরপরেই পর্যটকরা চলে যেতে পারে কমলালেবু বাগানে। তবে এখানে শীতকালে এলে পুরো গ্রামটি কমলা রঙের চাদরে ঢাকা পড়ে থাকে। বাগানে গিয়ে সরাসরি গাছ থেকে লেবু খাওয়ার অভিজ্ঞতা অবিস্মরণীয়। তবে গাহুনবাড়িতে থাকার জন্য কোনো বড় হোটেল নেই, এখানে মূলত হোমস্টে ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষজন অত্যন্ত সহজ-সরল এবং অতিথিবৎসল।
বাড়ির তৈরি টাটকা জৈব সবজি, পাহাড়ি মুরগির ঝোল আর ধোঁয়া ওঠা মোমো বা থুকপা, এখানকার আতিথেয়তার অন্যতম অঙ্গ। রাতে পাহাড়ি নিস্তব্ধতার মাঝে ক্যাম্পফায়ার পাশে বসে সময় কাটানো এক জাদুকরী অনুভূতি তৈরি করে।এই গাহুনবাড়ি পৌঁছাতে বাস বা ট্রেন ধরে পৌঁছে যেতে হবে শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন।
সেখান থেকে গাহুনবাড়ির দূরত্ব প্রায় ৭০-৭৫ কিলোমিটার। সেবক রোড হয়ে মালবাজার বা ডামডিম দিয়ে গরুবাথান পৌঁছাতে হয়। গরুবাথান থেকে পাহাড়ি চড়াই পথ গাড়ি ধরে সহজেই এই গ্রামে পৌঁছানো যায়। গাড়িত যেতে সময় লাগে প্রায় ৩ থেকে ৩.৫ ঘণ্টা। গাহুনবাড়ি ভ্রমণের সেরা সময় হলো অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস।
তবে বর্ষাকালে পাহাড়ের রূপ অন্যরকম থাকে, চারপাশ ঘন সবুজ হয়ে ওঠে। শীতকালে আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। ডুয়ার্সের ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যদি এমন কোনো জায়গায় যেতে চান যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কের চেয়ে পাখির কলকাকলি বেশি স্পষ্ট, তবে গাহুনবাড়ি আপনার তালিকার শীর্ষে থাকা উচিত।
