আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএম সদর দপ্তরের সামনেই বসল চণ্ডীপাঠের আসর
সংবাদদাতা, কলকাতা: মাইক বেঁধে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চ। বসে আছেন কয়েকজন। তাঁর নিজেদের সনাতনী হিন্দু বলে দাবি করছেন। ঠিক আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে ঢোকার মুখেই চণ্ডীপাঠ করছেন তাঁরা। ‘রিপাবলিক পার্টি অব ইন্ডিয়ার’ উদ্যোগে এই চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা হয়েছে। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে রয়েছে রাজ্য সিপিএমের সদর দপ্তর। রাস্তার একদিকে রয়েছে সেই অফিস আর অন্য দিকেই মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে মাইকে চণ্ডীপাঠ করা হচ্ছে। সিপিএমের যাতে শুভবুদ্ধির উদয় হয় সেই কারণেই এই চণ্ডীপাঠ বলে দাবি করছেন সনাতনীরা। ধর্মকে আফিমের সঙ্গে তুলনা করা সিপিএমকে সনাতনী সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত করতে তৎপর আজকের রাষ্ট্রবাদী সরকার। পুজোর মরশুমে সেই লক্ষ্যে সিপিএম সদর দপ্তরের সামনে ধর্মীয় কর্মসূচি তাঁদের।
মঙ্গলবার দুপুরে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বসে এই চণ্ডীপাঠের আসর। বেশ কয়েকজন মহিলা সেখানে চণ্ডীপাঠ করেন। যদিও এনিয়ে আলিমুদ্দিনের কর্তাদের তেমন ‘মাথাব্যথা’ নেই। এই প্রসঙ্গে সিপিএমের বর্ষীয়ান নেতা সুজন চক্রবর্তী জানান,ওদের প্রয়োজন মনে হয়েছে তাই করেছে। এতে কার কী এলো-গেলো। ওদের কাজ কম যদি থাকে, আর মনে হয় চণ্ডীপাঠ করাই একমাত্র কর্তব্য, এটা রাস্তার উপর করা যায়। আমাদের কিছুই এসে যায় না। আর চণ্ডীপাঠ রোজ করা ভালো। আমাদের অনেক কর্মী আছেন, যাঁরা ওঁদের সঠিকভাবে চণ্ডীপাঠ করাটা শিখিয়ে দিতে পারবেন। আরেক সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত বলেন, গোটা জেন জি বিজেপির কানে এমন মন্ত্র ভরে দিয়েছে যে বিজেপি বাস্তব আর স্বপ্নের ফারাক ভুলে গেছে। আর ধর্মাচরণ যে কেউ করতে পারেন। কিন্তু আলিমুদ্দিন কেন করছে জানি না। আমাদের গেটে ধর্মবিদ্বেষী মানুষ বাদে সকলেই স্বাগত।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মুজাফফর আহমেদ ভবন সিপিএমের সদর দপ্তর, অন্যান্য বামপন্থী দলগুলিও অহরহ এখানে আসে দলীয় কাজের জন্য। সেই পার্টি অফিসের অদূরেই এই চণ্ডীপাঠের আয়োজন করা ‘নাস্তিক’ বামেদের বিশেষ বার্তা দেওয়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
