বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

নির্বাচন কমিশন ঘেরাও কর্মসূচিতে দিল্লি মেট্রো বন্ধের নির্দেশ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

09 October, 2026 5:25 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: রাজধানীতে ককরোচদের বিক্ষোভ দমনে পুলিশের ভূমিকাকে চরমভাবে তিরস্কৃত করল সুপ্রিম কোর্ট। বিক্ষোভের আগে দিল্লি মেট্রো রেল কর্পোরেশনকে (DMRC) অন্তত ৫৭টি স্টেশনের প্রবেশ ও বেরনোর গেট বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ। ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে এই বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ১০ অক্টোবরও তা বহাল থাকতে পারে।

গণপরিবহণের ওপর যে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন ‘সবকিছু স্তব্ধ না হয়ে যায়’ এবং সাধারণ মানুষ যেন কোনও চরম ভোগান্তির মুখে না পড়েন।

মেট্রো স্টেশনগুলির প্রবেশপথ যেভাবে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপত্তি রয়েছে, এমন মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয়, সাধারণ মানুষের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হোক।

সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে আশ্বাস দিয়ে জানান, তিনি সরকারের সঙ্গে কথা বলে সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, আদালতের উদ্বেগ কোনও নির্দিষ্ট আন্দোলনকারী বা ব্যক্তিকে নিয়ে নয়। তাঁদের চিন্তা সেই লক্ষ লক্ষ সাধারণ যাত্রীকে নিয়ে, যাঁরা প্রতিদিন কর্মসূত্রে গুরুগ্রাম, গ্রেটার নয়ডা, পূর্ব ও দক্ষিণ দিল্লি থেকে রাজধানীতে যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে বহু ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী এবং বয়স্ক নাগরিক রয়েছেন, যাঁদের একমাত্র ভরসা এই পাবলিক ট্রান্সপোর্ট।

প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রত্যেকের তো আর নিজস্ব গাড়ি নেই। সকলের পক্ষে প্রাইভেট গাড়ি চড়াও সম্ভব নয়। মানুষ গণপরিবহণের ওপর নির্ভর করেন। এভাবে কোনও পরিষেবা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া যায় না।

এর আগে আইনজীবী কপিল সিবাল, এ এম সিংভি, গোপাল শঙ্করনারায়ণন, নিত্য রামকৃষ্ণন এবং আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ও বৃন্দা গ্রোভার সহ একটি উচ্চপর্যায়ের আইনজীবী প্রতিনিধি দল প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিজেপি-র প্রতিবাদের আগে রাজ্য প্রশাসনের জারি করা এই বিধিনিষেধের বিষয়টি সামনে আনেন।

পুলিশি নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৯টা থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মোট ৫৭টি দিল্লি মেট্রো স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল। একই সঙ্গে দিল্লির দুই গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন—নতুন দিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিনমুখী ট্রেন চলাচলেও কাটছাঁট করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হাজার হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনাকান্তির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ প্রথমে জানিয়েছিল, আন্দোলনকারীরা সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হলে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনও নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হতো।

বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, আন্দোলনের মূল আয়োজক কারা তা জানা থাকলে আমরা তাঁদের কাছে কত মানুষ জমায়েত হতে পারেন তা জানতে চাইতে পারতাম। সেক্ষেত্রে সরকারও গোটা শহরের পরিষেবা অচল না করে পরিস্থিতি অনুযায়ী মেপে পদক্ষেপ নিতে পারত।

 

প্রতিবেদন

Sandipan Saha