দেবীপক্ষের সূচনায় মহালয়ার ভোরে ঘাটে-ঘাটে তর্পণের প্রস্তুতি, চলছে প্রশাসনের নজরদারি
সংবাদদাতা, কলকাতা: রাত পোহালেই মহালয়া। পিতৃপক্ষের বিদায় আর আলোয় ভরা দেবীপক্ষের আগমনের এক পরম সন্ধিক্ষণ। আগামী কাল ভোরবেলা গঙ্গা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ে পিতৃপুরুষের উদ্দেশে তর্পণ করতে ভিড় জমাবেন অগণিত মানুষ। পুণ্যার্থীদের সেই তর্পণ যাতে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে আগাম পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। নবান্নের তরফে রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব।
বাবুঘাট-বাগবাজার-শোভাবাজার-নিমতলা সহ একাধিকঘাটে মহালয়ার পুণ্য লগ্নে পিতৃতর্পণ ভোর থেকেই। তবে শুধু কলকাতা নয়, রাজ্যে বিভিন্ন জেলাতেও দেখা যাচ্ছে একই ছবি। তর্পণ নিয়ে সতর্ক পুলিশ। দুর্ঘটনা এড়াতে রাখা হয়েছে বাড়তি ফোর্স। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গঙ্গাবক্ষে টহল দেবে রিভার ট্রাফিক পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দল।
প্রশাসনের এই তৎপরতার আবহেই সোশ্যাল মিডিয়ায় বিষয়টি নিয়ে বার্তা সামনে এসেছে। মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর এক্স হ্যান্ডেলে বার্তা, মহালয়া উপলক্ষ্যে তর্পণ করতে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন ঘাটে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রাজ্য সরকার। একইসঙ্গে সেখানে আরও বলা হয়েছে, ‘নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে তর্পণ সম্পন্ন করতে তৎপর রাজ্য প্রশাসন। আজ সন্ধ্যা থেকে তর্পণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সাফাইকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে শিফটে কাজ করবেন। ভোর ৩টে থেকে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করবে সিইএসসি এবং রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন নিগম। অস্থায়ী কিয়স্ক ও জলের ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তর ও পুরসভাগুলি। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘাটে থাকবে ফার্স্ট-এইড ক্যাম্প ও অ্যাম্বুল্যান্স।
কাছাকাছি হাসপাতালগুলিকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। আজ সন্ধ্যা থেকে তর্পণ পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত জেলাগুলির পাশাপাশি নবান্নের স্টেট ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারে কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে। যে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর জেলাগুলিকে অবিলম্বে এই কন্ট্রোল রুমে জানাতে বলা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও ফাঁক না থাকে, তার জন্য জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে ব্যক্তিগতভাবে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যসচিব। কোন ঘাটের দায়িত্বে কোন আধিকারিক থাকবেন, তা নিয়ে জেলা ও পুরসভা স্তরে একটি নির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করতে বলা হয়েছে। মহালয়ার আগেই সমস্ত প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে হবে।
নবান্নের শীর্ষকর্তার কড়া নির্দেশ, তর্পণের দিন গঙ্গার ঘাটগুলির পরিবেশ যেন পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ এবং উৎসবের মেজাজের সঙ্গে মানানসই হয়। সব মিলিয়ে, পিতৃপক্ষের অবসানে দেবীপক্ষের শুরুতে রাজ্যবাসীর তর্পণ যাতে নির্বিঘ্ন হয়, তার জন্য আটঘাট বেঁধেই ময়দানে নামছে প্রশাসন।
