দুর্গাপুজোয় সারারাত ট্রেন পরিষেবা হাওড়া ডিভিশনের, কড়া নিরাপত্তা মোতায়েন
সংবাদদাতা, কলকাতা: দুর্গাপুজোয় শিয়ালদহের মতো হাওড়া ডিভিশনেও দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এ বছর ষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী, অর্থাৎ ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর, হাওড়া স্টেশন ও সংলগ্ন রেলপথে বাড়তি যাত্রীচাপ সামলাতে বড়সড় প্রস্তুতি নিয়েছে রেল। বিশেষ ট্রেন, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার, রাতের স্পেশাল লোকাল, কড়া নিরাপত্তা ও চিকিৎসা পরিষেবা, সবই থাকছে। রেলের হিসাব বলছে, পুজোর দিনগুলিতে শুধু হাওড়া স্টেশনেই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ লক্ষ যাত্রীর ভিড় হতে পারে।
বিশেষ ট্রেন
হাওড়া ডিভিশনে এবার চলবে সাত জোড়া বিশেষ দূরপাল্লার ট্রেন এবং সাত জোড়া বিশেষ ইএমইউ। এ ছাড়া ডিভিশনের বিভিন্ন স্টেশন হয়ে চলাচল করবে ২৫ জোড়া পুজো স্পেশাল ট্রেন।
রাত জেগে ঠাকুর দেখার জন্য স্পেশাল লোকাল
১৭ থেকে ২১ অক্টোবর প্রতি রাতে সাতটি বিশেষ লোকাল চালানো হবে। বর্ধমান-হাওড়া, হাওড়া-চন্দনপুর, ব্যান্ডেল-হাওড়া এবং তারকেশ্বর-শেওড়াফুলি-সহ একাধিক রুটে মিলবে এই পরিষেবা।
হাওড়া-শিয়ালদহ সংযোগ
দুই শাখার যাত্রীদের সুবিধার জন্য রাতের যোগাযোগ বাড়ানো হয়েছে, ডানকুনি ও নৈহাটি হয়ে চলবে বিশেষ পরিষেবা।
- একটি বিশেষ ট্রেন রাত ১১টায় শিয়ালদহ থেকে ডানকুনির উদ্দেশে ছাড়বে এবং রাত ১১:৫২ মিনিটে ফিরবে।
- আরেকটি বিশেষ ট্রেন রাত ১২:৪৫ মিনিটে ব্যান্ডেল থেকে নৈহাটির উদ্দেশে রওনা হবে এবং রাত ১:১৫ মিনিটে ফিরবে।
নিরাপত্তায় বাড়তি জোর
- আরপিএফ এসকর্ট: রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৭৫টি রাতের ট্রেনে থাকবে আরপিএফ এসকর্ট। প্রতিটি দলে থাকবেন দু’জন করে কর্মী, যাঁদের মধ্যে মহিলা আরপিএফ কর্মীও থাকবেন। রাতের যাত্রায় মহিলাদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- সিসিটিভি নজরদারি: ডিভিশনের ২,৯০২টি সিসিটিভি ক্যামেরার সঙ্গে থাকছে আরও ১২৮টি সৌরচালিত ক্যামেরা। ২৪ ঘণ্টা ডিভিশনাল ওয়ার রুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হবে। কোনও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হাওড়া, রামপুরহাট, ব্যান্ডেল ও বর্ধমানে প্রস্তুত থাকবে কুইক রিঅ্যাকশন টিম।
- হাওড়ায় আরপিএফ মোতায়েন: পুজোর ডিউটিতে থাকবেন ৬৪ জন আরপিএফ আধিকারিক ও ২৫৪ জন কর্মী। যাত্রীদের নিরাপদে ওঠানামা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করাই তাঁদের কাজ।
