দিল্লি ক্যাপিটালসের হেড কোচ সৌরভ, ট্রফির খরা কাটানোর দায়িত্ব এ বার ‘দাদা’র কাঁধে
সংবাদদাতা, কলকাতা: ২০০৮ সাল থেকে আইপিএল খেলছে দিল্লি ক্যাপিটালস, কিন্তু ট্রফি আজও অধরা। গত মরশুমেও লিগ পর্বে শেষ করতে হয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। সেই খরা কাটানোর দায়িত্বই এ বার তুলে দেওয়া হল সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে। আগামী মরশুমে দলের হেড কোচ হলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজি।
আইপিএলে কোনও দলের হেড কোচ হিসেবে এটাই সৌরভের প্রথম দায়িত্ব। এত দিন দিল্লির সঙ্গে তাঁর যোগ ছিল পরামর্শদাতা, ক্রিকেট ডিরেক্টর ও মেন্টরের ভূমিকায়। এ বার সেই সম্পর্ক পৌঁছল একেবারে ডাগআউটের কেন্দ্রে। ২০২৫ ও ২০২৬ মরশুমে কোচ ছিলেন হেমাং বদানি। তাঁর নেতৃত্বাধীন কোচিং সেটআপের বিদায়ের পরই নতুন মুখ হিসেবে সৌরভকে বেছে নিয়েছে দিল্লি।
২০১৯ সালে পরামর্শদাতা হিসেবে দিল্লিতে যোগ দেন সৌরভ। পরে পুরুষ ও মহিলা, দুই দলেরই ক্রিকেট ডিরেক্টরের দায়িত্ব সামলেছেন। রিকি পন্টিং কোচ থাকাকালীনও দিল্লির কোচিং কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো এবং মূল ক্রিকেটারদের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় আছে তাঁর। ফলে নতুন ভূমিকায় একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে হবে না।
কোচ হিসেবেও সৌরভের প্রস্তুতি একেবারে ফাঁকা নয়। চলতি বছরের শুরুতে দক্ষিণ আফ্রিকার এসএ২০ লিগে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসের হেড কোচ ছিলেন তিনি, যা ছিল তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক কোচিং অ্যাসাইনমেন্ট। পাশাপাশি প্রশাসক হিসেবে বিসিসিআই ও ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সঙ্গে দীর্ঘ কাজের অভিজ্ঞতাও আছে তাঁর ঝুলিতে।
সৌরভের বার্তা স্পষ্ট। দিল্লি তাঁর কাছে বিশেষ, কারণ এই দলের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। প্রথম আইপিএল কোচিং দায়িত্বে তাঁর লক্ষ্য একটি “শক্তিশালী ও নির্ভীক” দল গড়া। অর্থাৎ কৌশল ও মানসিকতা, দু’জায়গাতেই বদলের ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ক্রিকেটমহলও এই নিয়োগকে শুধু কোচ বদল হিসেবে দেখছে না। দিল্লির সঙ্গে পুরনো সম্পর্ক, দলের কাঠামো নিয়ে অভিজ্ঞতা এবং আগ্রাসী নেতৃত্বের ভাবমূর্তি মিলিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজির আশা, ‘দাদা’র হাত ধরে মানসিকতাতেও বদল আসবে।
সৌরভের অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে আস্থা রাখছে দিল্লির মালিকপক্ষও। তাঁদের বক্তব্য, দলের ক্রিকেট কাঠামো মজবুত করতে সৌরভ ইতিমধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। কোচ হিসেবে তাঁর ক্রিকেটীয় ভাবনা দলকে খেতাবের লড়াইয়ে আরও এগিয়ে দেবে বলেই আশা ফ্র্যাঞ্চাইজির। রাজনীতি নয়, বাইশ গজেই আবার জোর গলায় ‘দাদাগিরি’। আর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একটাই, দিল্লির দীর্ঘ খরা কাটিয়ে প্রথম আইপিএল ট্রফি এনে দেওয়া।
