পুলিশের সঙ্গে বাকবিতন্ডা, উপনির্বাচন চলাকালীন গ্রেপ্তার হুমায়ুন কবীর
সংবাদদাতা, রেজিনগর: রেজিনগরে উপনির্বাচন শুরু হওয়ার পর সকালেই গ্রেপ্তার হলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। ভোটারদের প্রভাবিত করা ও উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার শচীন মক্কর জানান, হুমায়ুন প্রার্থীও নন, এজেন্টও নন। তাই ভোটের দিন তাঁর এভাবে ঘুরে বেড়ানোর অধিকার ছিল না। সেই কারণেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে।
মঙ্গলবার সকালে ভোট দিতে যাওয়ার সময় থেকেই পুলিশকে নিশানা করছিলেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, সকাল থেকে রেজিনগরে তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন ছিল। ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে, ভোট দিয়ে বেরিয়ে এবং পরে দলীয় কার্যালয় থেকেও একই সুরে পুলিশের সমালোচনা করেন তিনি। অভিযোগ, একাধিকবার পুলিশের উদ্দেশে কটূক্তিও করেন।
আরও পড়ুন: ‘বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করতে না বলুন’, আইনি নোটিস নিয়ে মমতাকে পাল্টা হুঙ্কার শুভেন্দুর
বুথের বাইরে দাঁড়িয়ে হুমায়ুন বলেন, “পুলিশ ধোয়া তুলসীপাতা নাকি!” তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ ভোটের নামে মানুষের অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে। দলের ৬৪ জনকে গ্রেপ্তার করেও পুলিশের “শান্তি হয়নি” বলে দাবি তাঁর। রেজিনগরবাসীকে তিনি বার্তা দেন, পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে যেন “মুগুর নিয়ে” রুখে দাঁড়ানো হয়। পাশাপাশি প্রশ্ন তোলেন, “পুলিশ যদি আমাকে মারতে আসে, আমি পুলিশকে ছেড়ে দেব নাকি!”
এর পর দলীয় কার্যালয়ে যান হুমায়ুন। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে পৌঁছয় পুলিশের একটি দল। শুরু হয় বাকবিতন্ডা। একসময় পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয়। শেষে জামা ধরে টানতে টানতে তাঁকে গাড়িতে তোলেন পুলিশকর্মীরা এবং থানায় নিয়ে যান। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে রেজিনগরে একাধিক বুথে ঢুকতে পারছেন না বিরোধী এজেন্টরা। বহরমপুরে এই নিয়ে বিক্ষোভ করেন কংগ্রেস কর্মীরা। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এই ঘটনা নিয়ে সরাসরি বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, বিজেপি নির্বাচনে প্রশাসনকে ব্য়বহার করে ভোট প্রভাবিত করছে। এই উপনির্বাচন বাতিল করা হোক।
