দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন: শেষ খেলাতেও হার মানল না বিজয় সালগাঁওকর
সিনেমা রিভিউ | লিখেছেন লোপামুদ্রা ভৌমিক
থ্রিলার সিনেমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, দর্শককে একবার চমকে দেওয়া যায়, দু’বারও যায়। কিন্তু একই চরিত্রকে নিয়ে তৃতীয়বার দর্শককে চমকে দেওয়া? সেটা অত্যন্ত কঠিন। অথচ ‘দৃশ্যম: দ্য কনক্লুশন’ ছবিটি সেই কঠিন কাজটাই করার চেষ্টা করেছেন পরিচালক অভিষেক পাঠক।
ছবিটি মুক্তি পাওয়ার তিনদিনের মধ্যেই বোঝা যাচ্ছে, ছবিটি দর্শকদের ভালো লেগেছে। ট্রেড রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, মুক্তির মাত্র তিনদিনের মধ্যেই ছবির ওয়ার্ল্ড ওয়াইড আয় প্রায় ২৭৩ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে।
* নতুনত্ব কোথায়?
প্রথম ‘দৃশ্যম’এর মূল প্রশ্ন ছিল, একটি পরিবার কীভাবে একটি অপরাধ লুকিয়ে ফেলতে পারে। দ্বিতীয় ছবিতে প্রশ্নটা আরও কঠিন হয়েছিল, আইন যখন সত্যের কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে, তখন সেই সত্যকে কীভাবে ফের আড়াল করা যায়? তৃতীয় ছবিতে নির্মাতারা একই প্রশ্নকে পুনরাবৃত্তি করেননি। এটি শুধু রহস্য সমাধানের গল্প নয়। এখানে দেখানো হয়েছে দুই বুদ্ধির সংঘর্ষ। একদিকে বিজয় সালগাঁওকর। সে সিনেমা দেখে, বই পড়ে, তারিখ মনে রাখে এবং পরিস্থিতিকে নিজের পক্ষে ব্যবহার করতে জানে। অন্যদিকে এমন এক প্রতিপক্ষ, যে এবার শুধু প্রমাণ খুঁজছে না, সে বিজয়ের চিন্তার ধরন বুঝতে চাইছে। ফলে তদন্তের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় মস্তিষ্কের যুদ্ধ। এখানেই তৃতীয় ‘দৃশ্যম’-কে সাধারণ থ্রিলার থেকে আলাদা মনে হয়।
অজয় দেবগণ বিজয় চরিত্রটিকে একটি আইকনিক করে তুলেছেন। এখানে তাঁর অভিনয় আরও সূক্ষ্ম হয়ে উঠেছে। এখানে সংলাপ কম। কখনও চোখের দৃষ্টি, কখনও কয়েক সেকেন্ডের নীরবতা, কখনও ঠোঁটের সামান্য নড়াচড়া ইত্যাদি দিয়ে বিজয় যেন সংলাপের বাইরেও অনেক কথা বলে। তাই এই ছবিতে সেই নীরবতার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এই ছবির অন্যতম শক্তি জয়দীপ আহলাওয়াত। তিনি এমন একজন প্রতিপক্ষ, যাকে শুধু ‘পুলিশ’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। দু’জনের বুদ্ধির টক্কর একটা চাপা সংঘর্ষের মতো উঠে আসে ছবিতে।
আগের দু’টি ছবির সাফল্যের কারণে তূতীয় ‘দৃশ্যম’-এর ক্ষেত্রে দর্শকের প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। তাই ছবিটি নির্মাণ করা খুব কঠিন ছিল। চিত্রনাট্যকার আমিল কিয়ান খান জানিয়েছেন, চূড়ান্ত গল্পে পৌঁছনোর আগে তিনি প্রায় ১০০টি ড্রাফট লিখেছিলেন। একটা টানটান চূড়ান্ত পরিণতির দিকে তিনি গল্পকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ‘দৃশ্যম ৩’ সেই পরীক্ষায় যথেষ্ট সফল।
* অভিনয়
অজয়ের এই ছবিতে অভিনয় বহুমাত্রিক। বিজয় সালগাঁওকরই এই ছবির কেন্দ্রবিন্দু। আগের দুই ছবির মতোই ঠান্ডা মাথার এবং হিসেবি। অসাধারণ তাঁর অভিনয়। এরপর বলতে হয়, মীরা দেশমুখের চরিত্রে তব্বুর কথা। এই পর্বে মীরা আর শুধুমাত্র তদন্তকারী পুলিশ অফিসার নন, ছেলের মৃত্যুর যন্ত্রণা, প্রতিশোধ স্পৃহা তাঁর চরিত্রটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। জয়দীপ আহলাওয়াত হয়েছেন এসপি রাজবীর সিং তোমর। ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন মুখ এবং বিজয়ের নতুন প্রতিপক্ষ। জয়দীপের অভিনয়ের মধ্যে আমরা দেখি একজন তীক্ষ্ণ মস্তিষ্কের প্রতিপক্ষকে। প্রকাশ রাজের ইন্দ্রজিৎ শেট্টি, শ্রিয়া সরণের নন্দিনী, ঈশিতা দত্তের অঞ্জু, রজত কাপুরের মহেশ দেশমুখ চরিত্রগুলি মূল গল্পের সঙ্গে অসাধারণ সঙ্গত করেছে।
* পরিচালনা
পরিচালক অভিষেক পাঠকের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হল, তিনি তৃতীয় ছবিকে শুধুমাত্র আগের দুই ছবির পুনরাবৃত্তি হতে দেননি। গতি, রহস্য এবং চরিত্রের সংঘর্ষ— এই তিনটি বিষয়কে মূলধন করে তিনি ছবিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন। তবে প্রথমার্ধে কিছু জায়গায় গতি সামান্য কম মনে হতে পারে। পুরনো ঘটনাগুলো মনে করিয়ে দেওয়া এবং নতুন চরিত্র প্রতিষ্ঠা করতে সময় নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে ছবির গতি অনেকটাই বেড়ে যায় এবং ক্লাইম্যাক্সের দিকে উত্তেজনা ক্রমশ ঘনীভূত হয়। এই ছবি পুজোর বাজারে ঝড় তুলবে কিনা, সেটা জানার জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।
