বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণে জনস্বার্থ মামলা, কেন্দ্র, কমিশন-সহ সব পক্ষকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের

05 October, 2026 1:40 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: সোমবার সুপ্রিম কোর্ট মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার দাবিতে একতরফা অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছে। আদালতের বক্তব্য, SIR সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত জ্ঞানেশ কুমার একাই নিয়েছেন, এই অভিযোগের ক্ষেত্রে আগে নির্বাচন কমিশন ও অন্য বিবাদীদের জবাব শোনা প্রয়োজন। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকার, নির্বাচন কমিশন, জ্ঞানেশ কুমার, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক জোশী, ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ এবং ডিজি (আইটি) সীমা খান্নাকে নোটিস পাঠিয়েছে। আগামী সপ্তাহে ফের শুনানি। সব পক্ষের বক্তব্য় শুনে তবেই নির্দেশ দেবে সুপ্রিম কোর্ট।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের নামে নিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার। অথচ দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করা হয়েছে। পিটিশন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের অগস্টের মধ্যে দুই কমিশনার অন্তত ১৪ বার আপত্তি নথিভুক্ত করেছিলেন। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মামলা দায়ের হয়।

আদালতে কী হল

পিটিশনার রাকেশ কুমার সিংয়ের হয়ে সওয়াল করেন senior আইনজীবী বিকাশ সিং। তিনি বলেন, CEC আইনের আওতায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ইতিমধ্যে বৃহত্তর বেঞ্চে বিচারাধীন, তবে এখন কিছু অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা জরুরি, কারণ নিজের ভোটাধিকার নিয়ে প্রত্যেক নাগরিক অনিরাপদ বোধ করছেন।

তিনি CEC আইনের ১৮ নম্বর ধারার উল্লেখ করেন, যেখানে বলা আছে কমিশনের সিদ্ধান্ত যতদূর সম্ভব সর্বসম্মতিক্রমে হবে, না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটে। ১৬ নম্বর ধারাও তুলে ধরেন, যা সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় নেওয়া পদক্ষেপের জন্য CEC-কে আইনি দায়মুক্তি দেয়। তাঁর বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও এই সুরক্ষা পান না।

বিকাশ সিং অবিলম্বে CEC-কে সাসপেন্ড করার নির্দেশ চান। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি গুরুতর এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করতে পারে। বেঞ্চ জানায়, আগে দেখতে হবে কোনও আইনভঙ্গ হয়েছে কি না। তখন তিনি বলেন, আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশ না দিলে “দেশ জ্বলবে।”

বেঞ্চ পাল্টা প্রশ্ন তোলে, জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করলে কমিশনের কাজই থমকে যাবে, তখন নির্বাচন করাবে কে? বিকাশ সিং প্রস্তাব দেন, বাকি দুই কমিশনার দায়িত্ব সামলাতে পারেন। বেঞ্চ জানায়, কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের জবাব শুনতেই হবে। তখন তিনি আর্জি জানান, অন্তত এই নির্দেশ দেওয়া হোক যে কমিশন শুধু সর্বসম্মতি বা সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, এটি বাধ্যতামূলক আইন এবং কমিশনের তা মানারই কথা; লঙ্ঘন হলে আদালত তা বাতিল করবে। এর জবাবে বিকাশ সিং বলেন, আদালত আর কী বাতিল করতে পারে, নির্বাচন বা নির্বাচিত সরকারকে তো বাতিল করা যায় না। তাঁর দাবি, একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে ভোটার তালিকাই ত্রুটিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বিচারপতি বাগচী প্রশ্ন করেন, বিবাদীদের না শুনে একতরফাভাবে কি এই সিদ্ধান্তে আসা যায় যে সবকটি সিদ্ধান্তই একতরফা ছিল? তিনি বলেন, নথিতে যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল না, তবে আদালত সেগুলিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে এবং ক্ষমতা-বহির্ভূত ঘোষণা করবে; তবে তার আগে কমিশনের কাছ থেকে স্পষ্ট ও স্বচ্ছ জবাব চাই। বিকাশ সিং তখন বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিজের বিবৃতিই সংবাদ প্রতিবেদনের সত্যতা মেনে নেওয়ার সামিল, প্রধান বিচারপতি জানান, শুধু সংবাদপত্রের খবরের ভরসায় আদালত কোনও নির্দেশ দিতে পারে না। শেষ পর্যন্ত বেঞ্চ নোটিস জারি করে। একই দাবিতে দায়ের হওয়া শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর সংযুক্ত পিটিশনেও নোটিস দেওয়া হয়েছে, সেখানে সওয়াল করেন senior আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী।

দুই পিটিশনে কী চাওয়া হয়েছে

রাকেশ কুমার সিংয়ের পিটিশন: ঘোষণা করা হোক যে নির্বাচন কমিশনের মতো বহুসদস্যের সংস্থার সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া যায় না। বিতর্কিত পদক্ষেপগুলি সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো মেনে নেওয়া হয়েছিল কি না, তা যাচাই করতে কমিশনের মূল নথি খতিয়ে দেখা হোক। অন্তর্বর্তী ত্রাণ হিসেবে জ্ঞানেশ কুমারের সাসপেনশনও চাওয়া হয়েছে।

শৈলেন্দ্র মণি ত্রিপাঠীর পিটিশন: কথিত একতরফাভাবে নেওয়া ১৪টি সিদ্ধান্ত বাতিল করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে, সাইবার নিরাপত্তা ও আইটি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়, একটি স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন বা SIT গঠন করা হোক। সেই তদন্তে ECINet ও ERONet ডেটাবেসের ফরেনসিক অডিট করার কথা বলা হয়েছে। পিটিশনের দাবি, SIR চলাকালীন ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ১৩ কোটি নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে; কী পরিস্থিতিতে তা ঘটল, তাও খতিয়ে দেখতে হবে।

এছাড়া জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫০-এর ৩২ ধারায় জ্ঞানেশ কুমার, সিনিয়র ডেপুটি নির্বাচন কমিশনার মণীশ গর্গ, ডিজি (আইটি) সীমা খান্না ও দায়ী অন্য আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের ও মামলা শুরুর নির্দেশ চাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, এই ধারায় ভোটার তালিকা তৈরি, সংশোধন বা পরিমার্জনের সঙ্গে জড়িত সরকারি দায়িত্বে কিছু নির্দিষ্ট গাফিলতির শাস্তির সংস্থান আছে।

পিটিশনারের অভিযোগের তালিকায় রয়েছে: ফর্ম ৬-এ কথিত অননুমোদিত পরিবর্তন, ভোটার তালিকার ডেটাবেস কেন্দ্রীভূত করা, ECINet-এর মাধ্যমে যোগ্য ভোটারদের নাম পুনরুদ্ধারে ব্যর্থতা, এবং পশ্চিমবঙ্গে ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে কমিশনের নামে ১৬.১০ লক্ষ আপিল দায়ের।

প্রতিবেদন

UTSAB RC