গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য শিলিগুড়িতে, গ্রেপ্তার ৭
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ির বাগডোগরায় গরু চোর সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য। শনিবার বাগডোগরার তারাবাড়ি এলাকায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনির ফলে দুই যুবকের মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। রবিবার তাদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। শনিবার ভোররাতে একটি পিকআপ ভ্যান নিয়ে একদল যুবক তারাবাড়ি এলাকায় যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গরুর চুরির উদ্দেশ্যেই তারা এলাকায় এসেছিল। বিষয়টি টের পাওয়া মাত্রই স্থানীয়রা ওই যুবকদের ঘিরে ধরে আটকে ফেলেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ জনতা পিকআপ ভ্যানে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং অন্য একটি গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। স্থানীয়দের মারধরের জেরে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার নেয়। পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই গণপিটুনির ঘটনায় গুরুতর জখম দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঠিক কতজন এই হামলায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন এবং পুলিশি পদক্ষেপ কী ছিল তা জানা যায়নি। ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে আটক করে পুলিশ। পরে আরও চারজনকে সেনাবাহিনী আটক করে এবং পরে তাদের বাগডোগরা থানার হাতে তুলে দেয়। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় মোট ৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম রাকিব, নুর মহম্মদ, মহম্মদ আনারুল, মহম্মদ আজাদ, আমির, আরিফ খান ও আক্রম খান। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের কেউ উত্তর দিনাজপুরের বাসিন্দা, আবার করোর বাড়ি বিহার ও হরিয়ানায়। রবিবার ধৃত ৭ জনকেই শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। গণপিটুনির মতো অপরাধমূলক কাজের পেছনে আর কারা জড়িত, তা জানতে বাগডোগরা থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। স্থানীয় প্রশাসন এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত উত্তেজনা রুখতে পুলিশি টহলদারি জোরদার করেছে।
