বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ডিসেম্বরে লন্ডনের পর্যটন মেলায় অংশগ্রহণ করবে পশ্চিমবঙ্গ

04 October, 2026 4:25 PM Sandipan Saha
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: চলতি বছরের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে চলা লন্ডন ট্রাভেল মার্ট -এ এই প্রথমবার আনুষ্ঠানিকভাবে অংশগ্রহণ করবে পশ্চিমবঙ্গ। শুধু লন্ডনই নয়, বিশ্বের ছয়টি দেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক পর্যটন উৎসবগুলিতেও ধীরে ধীরে রাজ্যের নিজস্ব কাউন্টার তুলে ধরার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যটন মঞ্চে পশ্চিমবঙ্গের এই গৌরবময় যাত্রা লন্ডন থেকেই শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ।
রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করার উদ্দেশ্যে সম্প্রতি চালসা সংলগ্ন একটি বেসরকারি রিসর্টে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। জলপাইগুড়ি জেলার পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, ট্যুর অপারেটর, বিভিন্ন পর্যটন সংগঠন এবং ব্যবসায়ীরা এই বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে মূলত ‘এক জেলা, এক গন্তব্য’ এই ভাবনাকে সামনে রেখে জলপাইগুড়ি জেলার পর্যটন সম্ভাবনা এবং পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত পর্যটন ব্যবসায়ীরা তাঁদের দৈনন্দিন সমস্যা, নানা দাবি ও গঠনমূলক প্রস্তাব সরাসরি মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। বৈঠকে পর্যটনের উন্নয়নে বেশ কিছু অন্তরায় ও চ্যালেঞ্জের দিকগুলি স্পষ্টভাবে উঠে আসে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকার পরিকাঠামো ও জমি সংক্রান্ত নানা জটিলতা। পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা সুনিশ্চিত করা। জঙ্গলে প্রবেশের টিকিট কাউন্টারের পরিষেবার মানোন্নয়ন।

ব্যবসায়ীদের সমস্ত সমস্যা ও দাবিদাওয়া মনোযোগ সহকারে শুনে মন্ত্রী শংকর ঘোষ সেগুলির একটি লিখিত তালিকা জমা দেওয়ার অনুরোধ জানান। পাশাপাশি, আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় বৈঠক করে এই সমস্যাগুলির ভিত্তিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। রাজ্য ও জাতীয় স্তরে পর্যটন খাতে বরাদ্দ, বিনিয়োগ এবং আয়ের একটি স্বচ্ছ হিসাব তৈরি করে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। জেলাভিত্তিক পর্যটন প্রকল্প গ্রহণের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় উৎসবের রূপরেখা তুলে ধরেন। পুরুলিয়ায় বর্ণময় পলাশ উৎসব। সান্দাকফু থেকে মেঘমা পর্যন্ত রোমাঞ্চকর ভিন্টেজ কার র‍্যালি। দার্জিলিঙে ঐতিহ্যবাহী চা উৎসব। কলকাতায় সাত দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক মানের ফুড ফেস্টিভ্যাল করার পরিকল্পনা জানান তিনি।

এছাড়াও, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সুবিধার্থে রাজ্যের বর্তমান পর্যটন ওয়েবসাইটটিকে আরও আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজও জোরকদমে চলছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে হোমস্টে পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর বার্তা দিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী। প্রতিটি হোমস্টে-কে আবশ্যিকভাবে ‘নিধি’ পোর্টালের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে সরকারি ব্যবস্থার আওতায় থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সিটংয়ের সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সংশ্লিষ্ট হোমস্টেটির প্রয়োজনীয় রেজিস্ট্রেশন বা সরকারি ছাড়পত্র ছিল না। ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে পর্যটনের বাণিজ্যিক প্রসারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণের উপর বিশেষ জোর দিয়েছেন শংকর ঘোষ। প্রকৃতিকে মূলধন করেই পর্যটন ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে হবে এবং এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। উন্নয়নের নামে যাতে প্রকৃতির উপর কোনও ধরনের বিরূপ প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও সমস্ত পর্যটন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট মহলে গভীর নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রীর এই ইতিবাচক ও সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাবের পর অত্যন্ত আশাবাদী হয়ে উঠেছেন জলপাইগুড়ির পর্যটন ব্যবসায়ীরা। লাটাগুড়ি থেকে বৈঠকে যোগ দিতে যাওয়া পর্যটন ব্যবসায়ী সুধীন গঙ্গোপাধ্যায়, তন্ময় দে ও শান্তনু ঘোষেরা জানান, মন্ত্রীর নির্দেশমতো তাঁরা খুব শীঘ্রই নিজেদের সমস্যা ও দাবিদাওয়াগুলি লিখিত আকারে প্রশাসনের কাছে জমা দেবেন। রাজ্য সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে বাংলার পর্যটন শিল্প আগামী দিনে এক নতুন দরজা খুলে দেবে বলেই মনে করছেন তাঁরা।

প্রতিবেদন

Sandipan Saha