অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা না পেয়ে সড়ক অবরোধ, তুলকালাম
সংবাদদাতা, মালদহ: সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে সেবা সেতু অভিযান শিবিরের। সেই শিবিরে গিয়েই ক্ষোভ ও হতাশায় ফেটে পড়লেন একদল মহিলা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা সময়মতো অ্যাকাউন্টে জমা না পড়ার অভিযোগ তুলে শুক্রবার মালদার বামনগোলা ব্লকের পাকুয়াহাটে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সমাধান না পেয়ে শেষ পর্যন্ত মালদা-নালাগোলা রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে শামিল হন মহিলারা। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই বামনগোলা ব্লকের বহু মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নিয়মিত পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ। বারবার পঞ্চায়েত ও প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়েও মেটেনি এই সমস্যা। শুক্রবার বামনগোলা ব্লকের পাকুয়াহাট ডিগ্রি কলেজে রাজ্য সরকারের বিশেষ সেবা সেতু অভিযান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল। মহিলারা ভেবেছিলেন, প্রশাসনিক এই শিবিরে নিজেদের নাম ও নথিপত্র জমা দিলে হয়তো দীর্ঘদিনের আটকে থাকা সমস্যার দ্রুত সমাধান মিলবে। সেই মতো সকাল থেকেই শিবিরে ভিড় জমান অগণিত মহিলা। নিজেদের ক্ষোভ ও দাবির কথা জানিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জমা দেন তারা। উপস্থিত আধিকারিকরা জানান, সমস্যার তাৎক্ষণিক বা সঙ্গে সঙ্গে কোনও সমাধান করা সম্ভব নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখে সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি আধিকারিকদের এই উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মহিলারা। দীর্ঘদিনের জমতে থাকা ক্ষোভ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে শিবির চত্বরে। ক্ষুব্ধ মহিলারা কলেজ চত্বর ছেড়ে বেরিয়ে এসে সরাসরি সংলগ্ন মালদা-নালাগোলা রাজ্য সড়কের ওপর বসে পড়েন। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের বকেয়া টাকা অবিলম্বে মেটাতে হবে দাবিতে শুরু হয় পথ অবরোধ । প্রায় ২০ মিনিট ধরে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য সড়কটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে। ব্যস্ততম রাস্তায় বাস, লরি, ছোট গাড়ি ও অ্যাম্বুল্যান্স সহ বহু যানবাহন আটকে পড়ে। নিত্যযাত্রী, পরীক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
ঘটনার খবর পেয়েই পাকুয়াহাট ও বামনগোলা থানার পুলিশ বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছায়। পুলিশ আধিকারিকরা সরাসরি বিক্ষোভকারী মহিলাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন। দ্রুত প্রশাসনিক স্তরে এই বকেয়া টাকার বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর মহিলারা পথ অবরোধ তুলতে সম্মত হন। স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। আন্দোলনকারী এক মহিলার জানিয়েছেন, আমরা দরিদ্র পরিবার। সরকারের ঘোষিত প্রকল্প থেকে আমাদের যে সহায়তা পাওয়ার কথা, তা নিয়মিত অ্যাকাউন্টে আসছে না। ব্যাঙ্ক থেকে প্রশাসনিক দপ্তর— সব জায়গায় ঘুরেছি। আশা ছিল সেবা সেতু শিবিরে সমাধান হবে। কিন্তু সেখানেও ঘোরানো হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের স্পষ্ট বার্তা, দ্রুত যদি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা জমা করার স্থায়ী সমাধান না হয়, তবে আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলন ও মহাকুমা শাসকের দপ্তর ঘেরাও করার পথে হাঁটবেন তাঁরা।
