বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ভোট লুটের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র বাঁচাও যাত্রা ইন্ডিয়া জোটের, দেশজুড়ে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি মমতার

30 September, 2026 3:28 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: ভোট লুট হয়েছে। সফটওয়ার বানিয়ে, সিস্টেম বানিয়ে ভোট লুট করা হয়েছে। বুধবার নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লকের বৈঠকের পর জ্ঞানেশ কুমার, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহকে তোপ দাগলেন মল্লিকার্জুন খাড়গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী। প্রায় তিন ঘণ্টার হাইভোল্টেজ বৈঠক শেষে বিরোধী শিবিরের বার্তা— নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতন্ত্র নষ্ট করেছেন। আর এই গণতন্ত্র নষ্ট করার জন্য তাঁরা শাস্তি পাবেনই। বৈঠকের আগে জোটের ঐক্য নিয়ে যতই প্রশ্ন উঠুক, ভোটচুরির অভিযোগে অন্তত মঞ্চে একসুরেই কথা বলল দেশের বিরোধী দলগুলি।

বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে জানিয়েছেন, প্রায় তিন-সাড়ে তিন ঘণ্টার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে সব নেতাই নিজের বক্তব্য রাখেন। উদ্ধব ঠাকরে ও হেমন্ত সোরেন অনলাইনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো সব নেতারাই নিজেদের পরামর্শ দিয়েছেন। মোদি ও শাহ দেশের মানুষকে কাঠপুতুলের মতো নাচাচ্ছে। ওরাই চুরি করে ভোট জিতছে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ২ অক্টোবর-৮ অক্টোবর জেলাস্তরে গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন করবে ইন্ডিয়া জোট। ৬ অক্টোবর লোকসভা ও রাজ্যসভার বিরোধী সাংসদরা নির্বাচন কমিশনের অফিসে মিছিল করবে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করে স্মারকলিপি জমা দেবে ইন্ডিয়া জোট। দেশজুড়ে গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার জন্য একটা বড় বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে। সেটির তারিখ এখনও ঠিক হয়নি।

মল্লিকার্জুন খাড়গের পরই সভায় বক্তব্য রাখার অনুরোধ করা হয় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে “ভ্যানিশ কুমার” বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভ্যানিশ কুমার চোর হ্যায়।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের এখনই পদত্যাগ করা উচিত। মমতার কথায়, “এক মিনিটও এঁর থাকার প্রয়োজন নেই।” মমতার অভিযোগ, মানুষের ভোট নিয়ে “ছেলেখেলা” করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিহারের ভোটে রাহুল গান্ধী ও তেজস্বী যাদব যে অভিযোগ তুলেছিলেন, বাংলাতেও তা-ই ঘটেছে, বরং “অনেক বেশি” ঘটেছে। তাঁর দাবি, বাংলায় ভোট লুট ও ভোটচুরি হয়েছে, ইভিএম জ্বালানো হয়েছে, এমনকী সফটওয়্যার বানিয়ে ভোট চুরি করা হয়েছে। শুধু বাংলাতেই নয়, গোটা দেশেই একই কাজ হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল নেত্রীর। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও তোলেন মমতা। তাঁর মন্তব্য, সংবিধান এখন সংকটে, আর এই সংকট মোকাবিলায় তিনি সব দলের সমর্থন চান। হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “ভ্যানিশ কুমার ইস্তফা না দিলে বড় আন্দোলন হবে।”

আরও পড়ুন: মমতা গেলেও নিজস্ব ভোটব্যাঙ্কের হিসেব কষে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বাড়াচ্ছে একাধিক দল

বৈঠকের পর সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী জানান, ভোটচুরি নিয়ে বিরোধী দলগুলির প্রত্যেকেরই নিজস্ব মতামত ও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর বক্তব্য, দেশের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির উপর মোদি, অমিত শাহ ও জ্ঞানেশ কুমাররা আক্রমণ করেছেন, আর এই বিষয়ে ঘরে উপস্থিত সবাই একমত হয়েছেন। রাহুলের কথায়, “যাঁরা গণতন্ত্র নষ্ট করেছেন, তাঁরা শাস্তি পাবেনই।” বৈঠকের সাফল্য নিয়ে তাঁর দাবি, এই ঘরে বিরোধীরা “অনেকটাই সফল” হয়েছেন। মোদিরা গণতন্ত্র চুরি করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। আগামী কয়েক মাসে দেশের রাজনীতিতে বড় বদল আনা সম্ভব হবে বলে আত্মবিশ্বাসের কথা জানান রাহু

বৈঠকের আগের প্রেক্ষাপট

মঙ্গলবারই নয়াদিল্লি পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বৈঠকের আগে জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্নও কম ছিল না। সূত্রের খবর, একাধিক শরিক দলই বৈঠক এড়িয়ে যেতে চাইছিল। উত্তরপ্রদেশের আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির কারণে বৈঠকে থাকতে পারবেন না বলে কংগ্রেস নেতৃত্বকে জানিয়েছিলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। টুইটারে ইন্ডিয়া জোটের সমর্থনে পোস্ট করেন। পাঞ্জাব নির্বাচনকে মাথায় রেখে কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখেছিল আম আদমি পার্টি। কিন্তু অরবিন্দ কেজরিওয়ালের দলও বৈঠকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছে। ঝাড়খণ্ডের মুখ্য়মন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এবং শিবসেনার উদ্ধভ ঠাকরে অনলাইনে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদন

UTSAB RC