বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

১৮ শটের রেকর্ড টাইব্রেকার! জঘন্য ফুটবল খেলে কোনোমতে ডুরান্ডের সেমিতে মোহনবাগান

17 August, 2026 6:46 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : ফলাফল বলছে ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। কিন্তু ম্যাচের সার্বিক চিত্রনাট্য আর খেলার মান একেবারেই স্বস্তিদায়ক নয় সবুজ-মেরুন সমর্থকদের জন্য। আইএসএল থেকে দল তুলে নেওয়া জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে ৯০ মিনিটের মূল খেলায় অত্যন্ত সাধারণ ও বিশ্রী ফুটবল উপহার দিল বাগান ব্রিগেড। শেষ পর্যন্ত টানা ১৮ শটের স্নায়ুচাপের টাইব্রেকারে জয় ছিনিয়ে নিয়ে সেমিফাইনালের টিকিট কাটলেও, এই পারফরম্যান্স জয়ের আনন্দের চেয়ে চিন্তার মেঘই বেশি বাড়িয়ে দিল।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে দুই দলের টানটান লড়াই শেষে সমতা বজায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় সরাসরি পেনাল্টি শুটআউটে। আর সেখানেই ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ ও নাটকীয় এক নজির তৈরি হলো। দু’দলের ফুটবলাররা একের পর এক শট নিতে থাকেন। মোট ১৮টি শটের ওই মহানাটকীয় শুটআউটে প্রতি মুহূর্তে বদলাতে থাকে ম্যাচের উত্তেজনা। একের পর এক শট মিস এবং অসাধারণ সেভের এই রোলারকোস্টার লড়াই শেষ পর্যন্ত সবুজ-মেরুন শিবিরের ভাগ্যেই জয় লেখে। ভারতীয় ফুটবলের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত দীর্ঘ ও স্নায়ুচাপের টাইব্রেকার এক বিরল নজির গড়ে তুলল।

খাতা-কলমের শক্তিতে জামশেদপুরের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল মোহনবাগান। কিন্তু মাঠের ফুটবলে তার প্রতিফলনের লেশমাত্র দেখা যায়নি। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণ তৈরি, বল পজেশন ধরে রাখা কিংবা প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি—সব বিভাগেই ব্যর্থতার ছবি ধরা পড়েছে। আইএসএলের মূল দল তুলে নিয়ে তৈরি হওয়া জামশেদপুরের অনভিজ্ঞ তরুণ ব্রিগেডের লড়াকু মানসিকতার সামনে কার্যত দিশেহারা দেখাল তারকাখচিত মোহনবাগানকে। পুরো ম্যাচ জুড়ে ছন্দহীন ফুটবল খেলে কোনোমতে ম্যাচটিকে টাইব্রেকার পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায় তারা।

টাইব্রেকারে জিতে শেষ চারের ছাড়পত্র মিললেও মোহনবাগান কোচ ও ম্যানেজমেন্টের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট। নকআউট পর্বে যদি খেলার মান এই পর্যায়ে থাকে, তবে সেমিফাইনালে আরও শক্তিশালী প্রতিপক্ষের সামনে বড় বিপর্যয় আসতে পারে। সেমিফাইনালের মহারণের আগে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে গুছিয়ে নেওয়াই এখন সবুজ-মেরুন শিবিরের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee