তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস গ্রেপ্তার
সংবাদদাতা, গোপালনগর: গোপালনগর বাজার এলাকা থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক তথা তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ দাসকে। সোমবার বিশ্বজিতের গাড়িতে হঠাৎই অভিযান চালায় গোপালনগর থানার পুলিশ। গাড়ি থেকে একটি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হতেই পুলিশ তাঁকে আটক করে। তারপরই গ্রপ্তার করা হয়। বনগাঁ পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার বিদিশা কলিতা দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং তথ্যের ভিত্তিতেই প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ঘটনার তদন্ত চালানো হচ্ছে। বিশ্বজিৎ দাস বনগাঁ উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের দু’বারের বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং জয়ী হন। তবে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি ফের তৃণমূলে ফিরে যান। এরপর ২০২৪ সালে তৃণমূল দলীয় সাংগঠনিক রদবদলে তাঁকে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। যদিও পরাজিত হন। পরবর্তীতে উপনির্বাচনেও বিজেপি প্রার্থী অশোক কীর্তনিয়ার কাছে হেরে যান বিশ্বজিৎ। পরপর নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তার দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছিল। বিশ্বজিৎ দাসের গ্রেপ্তারির পর কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল কটাক্ষ করে বলেন, ওর অনেক আগেই গ্রেপ্তার হওয়া উচিত ছিল। পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বেশ কিছুটা দেরি করে ফেলল। অন্যদিকে বনগাঁ পুরসভার প্রাক্তন এক বিজেপি কাউন্সিলেরর অভিযোগ, বিধায়ক এবং তৃণমূল জেলা সভাপতি থাকাকালীন বিশ্বজিৎ দাস বহু মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছেন। তিনি সর্বদা বোমা, গুলির রাজনীতি করে এলাকা উত্তপ্ত রাখতেন। যে ধরনের অপকর্ম তিনি করেছেন, আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। অভিযুক্ত প্রাক্তন বিধায়কের গ্রেপ্তারি নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বিশ্বজিতের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কী উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
