বুথ সভাপতি খুন: ঘটনাস্থলে পুলিশ কুকুর, সিআইডি, ফরেন্সিক দল
সংবাদদাতা, বোলপুর: বীরভূমের শান্তিনিকেতন সংলগ্ন বোলপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ২০১ নম্বর বুথের বুথ সভাপতি চন্দন ভল্লাকে গুলি করে খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে এলাকায়। রবিবার সন্ধেয় তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে দুষ্কৃতীরা হামলা চালায়। কাছ থেকে মাথায় গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এদিন গভীর রাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বীরভূম জেলা পুলিশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকা থেকে ঘিরে ফেলে। তদন্ত প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সোমবার সকাল থেকেই ঘটনাস্থলে ছিল পুলিশ। দুষ্কৃতীদের পালানোর পথ চিহ্নিত করতে নামানো হয় পুলিশ কুকুর। পাশাপাশি এদিন ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় সিআইডি এবং ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি বিশেষ দল। ফরেন্সিক দলের সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে রক্তের নমুনা, ব্যবহৃত গুলির খোল ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও স্ক্যান করে দেখা হচ্ছে যে ঘটনার সময় ও ঠিক তার আগে-পরে কারা ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত করছিল। এখনও পর্যন্ত এই খুনের নেপথ্যে কোনও সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট নয়। এটি রাজনৈতিক শত্রুতা, পারিবারিক কোনও বিবাদ নাকি ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক টানাপোড়েনের ফল, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃতের পরিচিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দাকে ইতিমধ্যেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। তাঁর মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে বোঝার চেষ্টা চলছে, শেষবার তাঁকে কে বা কারা ফোন করে ডেকেছিল। বোলপুরের মতো একটি ঘনবসতিপূর্ণ ও শান্ত এলাকায় বুথ সভাপতি খুনের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। এলাকার মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, দ্রুত এই দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে এবং ঘটনার আসল কারণ প্রকাশ্যে আনা হবে।
