উত্তরপাড়ায় কুণাল ঘোষের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর, ক্ষোভ প্রকাশ মমতার
সংবাদদাতা, উত্তরপাড়া: হুগলির শ্রীরামপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় যোগ দিতে যাওয়ার পথে ‘স্থানীয় কিছু বাসিন্দার’ বিক্ষোভের মুখে পড়লেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শনিবার বিকেলে উত্তরপাড়ার সখের বাজার এলাকায় তাঁর গাড়ি আটকে ডিম ছোড়ার পাশাপাশি রড ও পাথর দিয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। এই ঘটনার পর কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মমতার সভায় তাঁর যোগদান বানচাল করতেই পরিকল্পনা করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
শনিবার বিকেলে শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন কুণাল ঘোষ। উত্তরপাড়া সখের বাজার এলাকায় পৌঁছতেই একদল দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায়। গো ব্যাক স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি আচমকাই আক্রমণকারীরা লাঠি, লোহার রড ও ভারী পাথর নিয়ে গাড়ির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কুণাল ঘোষ জানান, চালকের পাশের আসনেই বসেছিলেন তিনি। তাঁকে নিশানা করেই একের পর এক পাথর ছোঁড়া হতে থাকে। কাচ না ভাঙায় বড় বড় পাথর এনে আঘাত করা হয়। এতে তাঁর গাড়ির পেছনের ও পাশের কাচ চুরমার হয়ে যায়। ঘটনার পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কুণাল। তিনি অভিযোগ করেন, একজন সাধারণ নাগরিক তথা জনপ্রতিনিধির ওপর প্রকাশ্যে এমন হামলা চললেও পুলিশ সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় ছিল। এই ধরনের হামলা চালিয়ে মমতাপন্থীদের কখনোই থামানো যাবে না। তিনি অবিলম্বে গাড়ি ঘুরিয়ে সোজা ভবানী ভবনে গিয়ে পুলিশের শীর্ষ মহলে রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এর কথা ও তাঁর উপর হওয়া আক্রমণের কথা জানিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন। ভাঙা গাড়ি নিয়েই ভবানীভবনে অভিযোগ জানাতে যান তিনি।
এদিকে সভার জন্য বাড়ি থেকে বেরনোর সময় এই হামলার কড়া ভাষায় নিন্দা জানান তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট দাবি করেন, ‘বিজেপির গুন্ডারাই’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে এই হামলা চালিয়েছে এবং তৃণমূল কর্মীদের সভায় আসতে বাধা সৃষ্টি করছে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনাকে অশনিসংকেত বলে আখ্যা দেন তিনি।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহা দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের দলের কোনও সম্পর্ক নেই। এটি তৃণমূলের ভেতরের দীর্ঘদিনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের পরিণতি। নিজেদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঢাকতেই তৃণমূল বিজেপির ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ তোলেন।
উল্লেখ্য, আদালতের নির্দেশে সর্বোচ্চ ১,০০০ সমর্থক নিয়ে শ্রীরামপুর কোর্টের মাঠে বিকেল ৪টে থেকে ৬টা পর্যন্ত এই জনসভার অনুমতি পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলি জেলা তৃণমূলের আহ্বায়ক অসিত মজুমদারের তত্ত্বাবধানে ডেনিস গভর্নর হাউসের সামনে গত দু’দিন ধরে সভার প্রস্তুতি চলছিল। অসিতবাবুও এই হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ডিম থেরাপি বা হামলা চালিয়ে তৃণমূল কর্মীদের আটকানো সম্ভব নয়। এই ঘটনার পর এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
