ম্যাট্রিমনি সংস্থার নাম করে কয়েক লক্ষের প্রতারণা
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: বিয়ের পাত্রপাত্রী খোঁজার বিজ্ঞাপন দেখে যোগাযোগ করেছিলেন অনেকেই। সেই যোগাযোগের আড়ালেই ছিল প্রতারণাচক্র। যা টের পাননি ভুক্তভোগীরা। ম্যাট্রিমনি সংস্থার নাম ভাঙিয়ে একাধিক ব্যক্তির থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতানোর অভিযোগে শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়লেন এক মহিলা। এনজেপি থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি আরও দুই তরুণীকে আটক করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গোপন সূত্রের ভিত্তিতে শিলিগুড়ির শক্তিগড়ের ৫ নম্বর রাস্তার একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালায় এনজেপি থানার একটি বিশেষ দল। সেখান থেকেই তিনজনকে ধরে পুলিশ। পরবর্তীতে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রতারণাচক্রের মূল মাথা কাকলি বিশ্বাস নামে এক মহিলাকে পাকড়াও করা হয়। জানা গেছে, ধৃত কাকলি বিহারের বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শিলিগুড়িকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার জাল বুনেছিলেন। অন্যদিকে, এনজেপি থানার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আটক হওয়া বাকি দুই তরুণী শক্তিগড় এলাকারই বাসিন্দা। তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে উঠে এসেছে এই চক্রের চাঞ্চল্যকর কারসাজি। জানা গিয়েছে, প্রতারকরা নিজেদের নামজাদা একটি ম্যাট্রিমনি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার মানুষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করতেন। নিজেদের বিশ্বস্ত প্রমাণ করতে পাত্র এবং পাত্রীর বায়োডাটা ও নজরকাড়া ছবি পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। ইচ্ছুক পরিবারগুলোকে ফাঁদে ফেলে সদস্যপদ বা রেজিস্ট্রেশন ফি, ভেরিফিকেশন চার্জ এবং অন্যান্য প্রক্রিয়ার নাম করে দফায় দফায় মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। কিন্তু একবার অনলাইন মাধ্যমে বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে গেলেই পাল্টে যেতো অভিযুক্তদের রূপ। টাকা নেওয়ার পর ভুয়ো ছবি পাঠানো হতো অথবা একেবারেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হতো। প্রতারিত ব্যক্তিরা পরবর্তী সময়ে খোঁজখবর করতে গেলে হুমকিও দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।
পুলিশ জানিয়েছে, যে ম্যাট্রিমনি সংস্থার নাম ব্যবহার করে এই আর্থিক প্রতারণার কারবার চালানো হচ্ছিল, সেই সংস্থার প্রকৃত মালিক বা পরিচালন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই চক্রের কোনও যোগ রয়েছে কি না, কিংবা তাদের অজান্তেই নাম ভাঙিয়ে চক্র চলছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক ধারণা, এর পেছনে আন্তঃরাজ্য কোনও বড় আর্থিক প্রতারণা চক্রের হাত থাকতে পারে। শুক্রবার অভিযুক্ত কাকলি বিশ্বাসকে জলপাইগুড়ি জেলা আদালতে পেশ করা হয়। অভিযুক্তদের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা যুক্ত রয়েছেন এবং কতজন মানুষ এদের শিকার হয়েছেন, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
