সেরা বাংলা ছবির জাতীয় পুরস্কার পেলেন অঞ্জন দত্ত
গুজরাত: এই প্রথম দিল্লির বাইরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান। গুজরাতের কেভাডিয়ার একতা নগরে বসেছে চাঁদের হাট। মঙ্গলবার সকালেই ৭২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠান উপলক্ষে গুজরাত উড়ে যান রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও।
এবারের আসরে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেলেন কার্তিক আরিয়ান। যৌথভাবে ‘ব্রহ্মযুগম’–এর জন্য মামুট্টিও পেয়েছেন সেরা অভিনেতার পুরস্কার। অন্যদিকে ‘আর্টিকেল 370’–এর জন্য সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার পেলেন ইয়ামি গৌতম। পাশাপাশি সেরা ছবিরও তকমাও পেয়েছে ‘আর্টিকেল 370’। অন্যদিকে ‘চালচিত্র এখন’–এর জন্য পরিচালক অঞ্জন দত্তর হাতে উঠল সেরা বাংলা ছবির জাতীয় পুরস্কার। তুষার হিরানন্দানি পরিচালিত এবং রাজকুমার রাও অভিনীত ‘শ্রীকান্ত’ সেরা হিন্দি সিনেমার খেতাব পায়। সৌরভ পালোধী পরিচালিত ‘অঙ্ক কী কঠিন’–এর খুদে সদস্যরাও পেল জাতীয় পুরস্কার৷ সেরা শিশুশিল্পী (যুগ্ম) হিসাবে পুরস্কার জিতল ‘অঙ্ক কী কঠিন’ ছবির ঋদ্ধিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, তপোময় দেব ও গীতশ্রী চক্রবর্তী।
চলচ্চিত্র বিষয়ক লেখার বিভাগে সঞ্জীব শ্রীবাস্তব পেলেন সেরা সমালোচকের পুরস্কার। চলচ্চিত্র বিষয়ক সেরা বইয়ের পুরস্কার দেওয়া হল ড. প্রদীপ কেঞ্চানুরু রচিত এবং ‘মিরর পুস্তকা’ প্রকাশিত ‘নানিরুভুদে নিমাগাগি নাদিরুভুদে নানাগাগি: কন্নড় সিনেমাডা তত্ত্বা মত্তু রাজকীয়’–কে। সেরা নন–ফিচার পরিচালকের পুরস্কার পেলেন হিন্দি ছবির বিশিষ্ট পরিচালক ও প্রযোজক আনন্দ এল রাই। তাঁর পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি— একতা কা প্রতীক’ এর জন্য তিনি এই পুরস্কার পেলেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের প্রবীণ অভিনেতা অনন্ত নাগকে ‘দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার’ তুলে দিলেন রাষ্ট্রপতি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মান দেওয়া হল। ‘স্বাতন্ত্র্য বীর সাভারকর’ ছবির জন্য রণদীপ হুডা পেলেন সেরা নবাগত পরিচালকের পুরস্কার। ‘আমারণ’–এর জন্য রাজকুমার পেরিয়াসামি সেরা পরিচালকের পুরস্কারে ভূষিত হন। অন্যদিকে সেরা কন্নড় সিনেমার সম্মান পেয়েছে ‘মিথ্যা’।
‘আর্টিকেল 370’–এর জন্য সেরা সঙ্গীত পরিচালক হলেন শাশ্বত সচদেব। ‘আমরণ’–এর আবহ সঙ্গীতের জন্য জি ভি প্রকাশ কুমার পেলেন সেরার শিরোপা। ‘ভুল ভুলাইয়া 3’–এর জন্য সেরা সাউন্ড ডিজাইনার হলেন মানস চৌধুরি। ‘আমারণ’–এ সম্পাদনার জন্য সেরা হলেন আর কালাইভান্নান এবং ‘পুষ্পা 2: দ্য রুল’–এ পোশাক পরিকল্পনার জন্য সেরার পুরস্কার পেলেন দীপালি নূর ও শীতল শর্মা। সেরা অ্যানিমেশন ছবির জন্য জোশি বেনেডিক্টকে সম্মানিত করা হয়। প্রযোজক বেনেডিক্ট ‘টাচড অ্যাজ ওয়াটার’ নামের সেরা অ্যানিমেটেড নির্বাক চলচ্চিত্রের জন্য জাতীয় পুরস্কার পান।
এদিন মোট ৯২ জন পুরস্কারজয়ী রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মান গ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও। জানান, জাতীয় পুরস্কারকে আর শুধুমাত্র দিল্লিতে সীমাবদ্ধ রাখা হবে না। ভবিষ্যতে কোন কোন জায়গায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের অনুষ্ঠান হবে, তার জন্য রাজ্যগুলির কাছ থেকে প্রস্তাব চেয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি রাজ্যকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রের নাম প্রস্তাবের কথা জানাতে বলা হয়েছে। শুধু জায়গার নাম পাঠালেই হবে না। সংশ্লিষ্ট পর্যটন কেন্দ্রের পরিকাঠামোয় কী কী উন্নয়ন করা হবে, সেই পরিকল্পনাও জানাতে হবে। প্রস্তাবিত পর্যটন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন করা হলে এবং সেটি নির্বাচিত হলে পরবর্তী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সেখানেও আয়োজন করা হবে।
