স্কুলের ভেতরে পড়ুয়াদের সামনেই খুন শিক্ষিকা, আত্মঘাতী আততায়ী
সংবাদদাতা, লখনউ: ফের উত্তর প্রদেশ। প্রতিদিনই কিছু না কিছু ঘটনার সাক্ষী থাকছে যোগীরাজ্য। এবার স্কুলের ভেতরে ঢুকে পড়ুয়াদের সামনে শিক্ষিকাকে খুনের অভিযোগ তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকের বিরুদ্ধে। আত্মঘাতী হলেন প্রেমিকও। লখিমপুর খেরির ঘটনায় চাঞ্চল্য রাজ্যজুড়ে।
জানা গেছে মৃতা শিক্ষিকার নাম নিশাত ফতিমা। সদর কোতোয়ালি এলাকার হিদায়াত নগর এলাকার বাসিন্দা। সোমবার সকালে আচমকাই স্কুলে আসেন নিশাতের প্রাক্তন প্রেমিক মহম্মদ সউদ আনসারি। পৌঁছে যান নিশাত যেখানে ক্লাস নিচ্ছিলেন সেই শ্রেণি কক্ষে। এরপরই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মহম্মদ সউদ হাত ধরে টানতে টানতে নিশাত ফতিমাকে স্কুলের তিনতলায় নিয়ে যান। এই ঘটনায় স্কুলের মধ্যে পড়ুয়াদের ভিড় জমে যায়। এরপর পড়ুয়াদের সামনেই নিশাতের মাথা লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে দেন যুবক। তার পর স্কুলের ভেতরেই নিজের মাথাতেও গুলি চালিয়ে আত্মঘাতী হন।
আচমকা এরকম বীভৎস ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন শিক্ষক–শিক্ষিকা থেকে শুরু করে পড়ুয়ারাও। নিশাত এবং সউদকে হাসপাতালে কাছে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, বছর খানেক আগে ওই বোসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন নিশাত। সউদের সঙ্গে নিশাতের বহুদিনের পুরনো সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। জানা গেছে, সউদ এদিন চার রাউন্ড গুলি চালান।
এদিকে লখিমপুর খেরির সিনিয়র পুলিশ সুপার খ্যাতি গর্গ জানিয়েছেন, ফাতিমা এবং মহম্মদ সউদ একে অপরকে ভালো করেই চিনতেন। কী কারণে ওই যুবক স্কুলে ঢুকে পড়ুয়াদের সামনেই নিশাত ফাতিমাকে খুন করেছে তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। দু’জনেরই পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও ওই স্কুলের শিক্ষক এবং কর্তৃপক্ষকেও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
