বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

বাঁকুড়ায় ‘ককরোচ’ সমর্থকের ওপর বিজেপির হামলার অভিযোগ, মৃত বৃদ্ধ

16 August, 2026 7:27 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি: বাঁকুড়ায় বেধড়ক মারধরে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধের। তাঁর নাম‌ মহম্মদ মাফিক। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। ঘটনায় প্রকাশ,  দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ইন্দাস থানার করিশুণ্ডা গ্রামের বাসিন্দা শেখ আবদুল হাফিজ। তাঁরই বাবা মাফিক। দিল্লি থেকে ফিরে সিজেপির দেশব্যাপী সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের আন্দোলনের অংশ নেন হাফিজ। তারই অংশ হিসেবে নিজের প্রাথমিক স্কুলটির বেহাল দশার ছবি ক্যামেরাবন্দি করছিলেন।

অভিযোগ, সেই ভিডিও সামনে আসতেই তাঁর ওপর চড়াও হন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। গত ১৩ আগস্ট বাড়িতে ঢুকে তাঁর হাফিজকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে চোট পান হাফিজের বাবা। বাবা–ছেলেকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায় পুলিশ।কিন্তু  হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে ফের তাঁদের ওপর বিজেপি কর্মীরা হামলা চালান বলে অভিযোগ। ঘটনায় মারাত্মক জখম হন মাফিক। কিন্তু হামলাকারীদের ভয়ে নিজেদের কার্যত গৃহবন্দি করে রাখেন তাঁরা। মাফিকের অবস্থার অবনতি হলে পুলিশের সাহায্যে তাঁকে প্রথমে ইন্দাস মহকুমা হাসপাতালে এবং পরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়। রবিবার সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় উত্তাল রাজনীতির ময়দান।

রবিবার নবান্নে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, বিষয়টিতে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। পুরোটাই দুষ্কৃতীদের কাজ। যে ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর হয়েছে, তাদের মধ্যে ৩ জন ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার। বাকিদেরও করা হবে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে। এই ঘটনায় বিজেপি যোগের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। বলেছেন, বিজেপির কোনও কার্যকর্তা এরকম কিছু করে থাকলে, পুলিশ তাদের বিজেপি বলে রেহাই দেবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে রবিবার দুপুরে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে হাফিজের সঙ্গে দেখা করেন সিজেপির  দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায়। ময়নাতদন্তের সময়ও হাফিজের সঙ্গে ছিলেন তিনি।  বলেন, ‘স্কুলের অব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন হাফিজ। তাই হামলা করা হয়েছে। তাতে হাফিজের বাবা মারা গিয়েছেন। হাফিজও জখম হয়েছেন। যাঁরা এই কাজে যুক্ত তাঁদের ঘুম উড়িয়ে দেওয়া হবে। বিজেপিরও ঘুম উড়িয়ে দেব। শিক্ষার অব্যবস্থা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলবই।’‌‌

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee