পড়ুয়া মৃত্যুতে ক্ষমা চাইল আইআইটি বম্বে, সাসপেন্ড অধ্যাপক, বিক্ষোভকারীদের দাবি, ‘যথেষ্ট নয়’
সংবাদদাতা, মুম্বই: বি-টেকের ২০ বছর বয়সি ছাত্র সাহিল ওয়াকোডের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত আইআইটি বোম্বে ক্যাম্পাস। বিক্ষোভের মধ্যেই সোমবার অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুলারকে সাসপেন্ড করল আইআইটি বম্বে। কিন্তু এই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা চেয়েছিলেন অধ্যাপক পদটাই কেড়ে নেওয়া হোক। সূর্যনারায়ণ দুলারকে শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদ থেকে সরানো সঠিক পদক্ষেপ নয়। সোমবার দুপুরে ইমেলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আইআইটি বম্বের অধিকর্তা অধ্যাপক শিরীষ কেদারে। সাসপেনশন নিয়ে ইনস্টিটিউটের তরফে আলাদা করে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
আইআইটি বম্বের বিবৃতি অনুযায়ী, মধ্য-সেমেস্টার পরীক্ষা চলাকালীন সাহিলকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ। তিনি প্রশ্নপত্র একটি এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড করে উত্তর খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন বলেও অভিযোগ। ওই পরীক্ষার কোর্স-শিক্ষক ও পরিদর্শক ছিলেন দুলা। এই অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি তিনি কর্তৃপক্ষকে জানান। ইনস্টিটিউটের বক্তব্য, পরে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান সাহিলের সঙ্গে কথা বলেন এবং আশ্বাস দেন যে এই ঘটনা তাঁর পড়াশোনা বা কেরিয়ারে কোনও প্রভাব ফেলবে না। ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা শুরু হয়নি বলেও ইনস্টিটিউট জানিয়েছে। চ্যাটজিপিটি নিয়ে যে মন্তব্য করেছিল কলেজ, তা নিয়ে ক্ষমাও চাওয়া হয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে।
সাহিলের পরিবার কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ছাত্র হেনস্থা ও জাতিবিদ্বেষের বৈষম্যমূলক আচরণেরও অভিযোগ তুলেছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মুম্বই পুলিশ তফসিলি জাতি ও উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ ) আইনে মামলা রুজু করে। যেখানে অভিযুক্তদের মধ্যে দুলার নামও রয়েছে। অভিযোগগুলির তদন্ত চলছে। সাহিলের মৃত্যু নিয়ে পুলিশি তদন্তও এখনও চলছে।
সাহিলের মৃত্যুর পর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করেন পড়ুয়ারা। দুলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে। ২০ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করে ১৮ দফা দাবির হলফনামায় সই করেন অধিকর্তা শিরীষ কেদারে। সেই দাবির মধ্যে দুলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও ছিল। সোমবার ডিনকে সাসপেন্ড করল বম্বে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। এদিকে আইআইটি বম্বের ফ্যাকাল্টি ফোরাম প্রকাশ্যে দুলার পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের বক্তব্য, পরীক্ষায় অসদুপায় ধরা পড়ার পর তিনি পরিদর্শক হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই পদক্ষেপ করেছেন।
আরও পড়ুন: ফ্রিজ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারবে মমতার তৃণমূল, পুরনো নির্দেশ বহাল হাই কোর্টের
কে এই সূর্যনারায়ণ দুলা?
আইআইটি বম্বের ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক এবং এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত অধ্যাপক সূর্যনারায়ণ দুলা। তাঁর গবেষণার ক্ষেত্র পাওয়ার সিস্টেম, স্মার্ট গ্রিড, মাইক্রোগ্রিড, নবায়নযোগ্য শক্তির সংযোজন এবং শক্তি-দক্ষতা। তিনি ২০০০ সালে নাগার্জুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বি-টেক, ২০০২ সালে আইআইটি বম্বে থেকে এম-টেক এবং ২০০৭ সালে আইআইটি দিল্লি থেকে পিএইচডি করেছেন। আইআইটি বম্বেতে তিনি ৬ নম্বর হস্টেলের ওয়ার্ডেন এবং পরে ডিন অব স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব সামলেছেন। জেইই অ্যাডভান্সড, ইউসিইইডি ও সিইইডি-র মতো বড় পরীক্ষার আয়োজনেও তিনি যুক্ত ছিলেন। ২০২১ সালে অধ্যাপক এস পি সুখাত্মে এক্সিলেন্স ইন টিচিং অ্যাওয়ার্ড, ২০১৭ সালে আইআইটি বম্বের এক্সিলেন্স ইন টিচিং অ্যাওয়ার্ড এবং ২০০৯ সালে ইয়াং ফ্যাকাল্টি অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন তিনি।
