সুইডেনের পার্লামেন্টে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীলা ভিখে পাটিল
স্টকহোম: এবার সুইডেনের পার্লামেন্টেও ভারতীয়ত্বের ছোঁয়া। গ্রিন পার্টির সদস্য হিসেবে স্টকহোম সিটি নির্বাচনী এলাকা থেকে জিতে সে দেশের পার্লামেন্টে পা রাখলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত নীলা ভিখে পাটিল। তাঁর বাবা অশোক ভিখে পাটিল প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ। বাড়ি মহারাষ্ট্রের অহমদনগরে। নীলার জন্ম যদিও সুইডেনে, তবু ছোটবেলার বেশিরভাগ সময়টাই তাঁর কেটেছে মাহারাষ্ট্রেই। নীলার অবশ্য আরও একটি পরিচয় রয়েছে। তাঁর কাকা রাধাকৃষ্ণ ভিখে পাটিল বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী। অহল্যানগর জেলার শিরডি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে টানা ৮ বার জয় পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে মহারাষ্ট্র সরকারের রাজস্ব দপ্তরের মন্ত্রী তিনি। একটা সময় ছিলেন কংগ্রেসের সক্রিয় সদস্য। মহারাষ্ট্র বিধানসভার বিরোধী দলনেতার দায়িত্বও সামলেছেন। ২০১৯–এ গেরুয়া শিবিরে যোগ দেন। নীলার দাদু ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বালাসাহেব ভিখে পাটিল। নির্বাচনে জয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নীলা বলেন, ‘আমি আমার দাদুকে গর্বিত করতে চাই। যখন আমার বয়স মাত্র ১৫ বছর ছিল, তখন তিনি আমাকে রাজ্য বাজেট পড়া শিখিয়েছিলেন।’
৪১ বছর বয়সি নীলা গোথেনবার্গ স্কুল অফ বিজনেস থেকে অর্থনীতি এবং আইনে স্নাতক। এরপর মাদ্রিদের ইউনিভার্সিটি থেকে করেন এমবিএ। ২০২০–তে যোগ দেন PwC Sweden–এ। এরমধ্যেই পা রাখেন রাজনীতির আঙিনায়। সুইডিশ রাজনীতিতে নীলার অভিজ্ঞতা বেশ দীর্ঘ। সামলেছেন প্রধানমন্ত্রী স্টেফান লোফভেনের রাজনৈতিক উপদেষ্টার দায়িত্ব। অর্থ, শুল্ক এবং আবাসন বিষয়ক একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি। একসময় স্টকহোম পুরসভার সিটি কাউন্সিলের সদস্যও ছিলেন।
এ বার সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করেছিল গ্রিন পার্টি। স্টকহোম কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন তিনি। ৩৪৯ আসনের জাতীয় নির্বাচন তথা Riksdag–এ Social Democrats সহ চারটি বিরোধী দল ১৭৬টি আসন পেয়েছে। গ্রিন পার্টি জিতেছে ২২টি আসন। ৯৯টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হিসেবে উঠে এসেছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস পার্টি। জয়ের পর নীলা বলেছেন, তিনি শিশু, কিশোরদের কণ্ঠস্বর হতে চান। তিনিএমন একটি সমাজ গড়ায় নিজের অবদান রাখতে চান যেখানে প্রতিটি শিশু একটি সুন্দর ভবিষ্যতের সুযোগ পাবে।
আর ভারত? তাঁর কি মনে পড়ে দেশের কথা? বলেছেন—‘আমি ভারতকে খুব ভালোবাসি। আমার অনেক ঘনিষ্ঠ ভারতীয় বন্ধু রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে দাদুর কথা। তিনি তাঁর জীবনের শেষ কয়েকটা বছর প্রায় প্রতি সপ্তাহে ফোন করতেন। অনেক কথা হতো। নানা বিষয়ে আলোচনাও করতেন।’
