১২ বছর পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের সর্বোচ্চসীমা বৃদ্ধি, PF-এর আওতায় আরও ৫১ লক্ষ
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: পুজোর মুখে বেসরকারি সংস্থার কর্মী ও শ্রমিকদের জন্য বড় সুখবর দিল কেন্দ্র সরকার। এমপ্লয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ডে (ইপিএফ) আয়ের সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। এতদিন এই সীমা ছিল ১৫ হাজার টাকা, যা বেড়ে হতে চলেছে ২৫ হাজার টাকা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রায় ১২ বছর পর এই আয়সীমা বদলের সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে ইপিএফের আয়সীমা ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাবে সিলমোহর দেয় মোদি প্রশাসন। উল্লেখ্য, বেসরকারি সংস্থার কর্মী-শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক সুরক্ষার জন্য সারা দেশে চালু রয়েছে এই প্রভিডেন্ট ফান্ড, যার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা এমপ্লোয়িজ় প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজ়েশন (ইপিএফও), যা কাজ করে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রকের অধীনে।
কী বললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী
মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, আয়সীমা বৃদ্ধির ফলে আরও ৫১ লক্ষ কর্মী ও শ্রমিককে বাধ্যতামূলকভাবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে। যার মাধ্যমে সরকার তাঁদের সামাজিক সুরক্ষার পরিধি আরও বিস্তৃত করতে পারবে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে মজুরি ও বেতন বৃদ্ধির ফলে বেসরকারি কর্মীদের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, আর সেই কারণেই আয়সীমা সংশোধনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের বাড়তি খরচ কত
বর্তমানে ইপিএফ খাতে সরকারের বার্ষিক খরচ প্রায় ১০,২৫০ কোটি টাকা। আয়সীমা বৃদ্ধির ফলে এই খরচ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১১,৩৩৯ কোটি টাকা—অর্থাৎ আগামী পাঁচ বছরে কেন্দ্রের মোট খরচ হতে পারে প্রায় ৫৬,৬৯৬ কোটি টাকা।
ইপিএফওর বর্তমান পরিধি
বর্তমানে প্রভিডেন্ট ফান্ডের পাশাপাশি পেনশন এবং কর্মচারী আমানত সংযুক্ত বিমা প্রকল্পও পরিচালনা করে থাকে ইপিএফও। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইপিএফের গ্রাহক সংখ্যা এখন ৭.৯৮ কোটিতে পৌঁছেছে, আর পেনশন প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন আরও ৮২ লক্ষ কর্মী ও শ্রমিক।
