কল্যাণীতে বিডিও-দের প্রশিক্ষণ শিবির, উন্নয়নে গতি আনতে তৎপর পঞ্চায়েত দপ্তর
সংবাদদাতা, কল্যাণী: রাজ্যের ব্লকে ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের গতি আনতে ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটাতে বিশেষ উদ্যোগ নিল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। কল্যাণীর বি. আর. আম্বেদকর ইনস্টিটিউট অফ পঞ্চায়েত অ্যান্ড রুরাল ডেভেলপমেন্ট-এ মঙ্গলবার বিডিও দের নিয়ে একটি একদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়।এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং রাজনৈতিক ইস্যুতে মুখ খোলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় জেলাশাসক থেকে শুরু করে পঞ্চায়েত সচিব স্তর পর্যন্ত সম্প্রতি পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই পর্যালোচনাতেই উঠে এসেছে যে, অনেক ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের গতি আশানুরূপ নয়। বিশেষ করে, ভূমি দপ্তর বা অন্যান্য ক্ষেত্র থেকে আসা অনেক বিডিও পঞ্চায়েত স্তরের প্রশাসনিক কাজকর্ম ও প্রকল্প রূপায়ণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এই প্রশাসনিক ফাঁকফোকর ও জটিলতা দূর করতেই প্রাথমিক পর্যায়ে রাজ্যজুড়ে বিভিন্ন জেলা থেকে নির্বাচিত প্রায় ১০০ জন বিডিও-কে একদিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সচিব ও দপ্তরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে তাঁদের সমস্যার কথা শোনা হয় এবং তার দ্রুত সমাধানের পথ বলে দেওয়া হয়। এই প্রথম ধাপের পর খুব শীঘ্রই আরও ১০০ জনেরও বেশি বিডিও-কে এই ধরনের বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে বলে জানা গেছে।
পঞ্চায়েতের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের বকেয়া টাকা ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।দিলীপ ঘোষ জানান, নিয়ম মেনে যে সমস্ত কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে, তার বকেয়া টাকা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও কর্মীরা দ্রুত পেয়ে যাবেন। যেসব ক্ষেত্রে নিয়ম বহির্ভূতভাবে কাজ হয়েছে বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেই দায় সরকার বা দপ্তর নেবে না। অনিয়মের প্রতিটি অভিযোগ বর্তমানে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেই মতো উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে। আটকে থাকা বা বাকি থাকা কাজগুলি দ্রুত শেষ করার জন্য নতুন করে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পুজোর ঠিক পরেই রাজ্যের সমস্ত ব্লকে উন্নয়নমূলক কাজের গতি আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রশাসনিক এই প্রশিক্ষণ শিবিরের পাশাপাশি আসন্ন উপনির্বাচন এবং রাজ্যের সমসাময়িক স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দিলীপ ঘোষ। রাজ্য প্রশাসনের অন্দরে নজরদারি বাড়ানো এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটাতে এই ধরনের কর্মশালার রাজনৈতিক গুরুত্বও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
