বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

বিপ্লবের ছোঁয়া পেতে ওড়িশার এরমে

15 August, 2026 2:49 PM admin
শেয়ার করুন

লোপামুদ্রা ভৌমিক : ১৯৪২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর। ভারত ছাড়ো আন্দোলন চলাকালীন ওড়িশার বাসুদেবপুরের এরম মেলা মাঠে কমলা প্রসাদ করের নেতৃত্বে প্রায় ৬ হাজার মানুষের এক শান্তিপূর্ণ জমায়ত হয়। ব্রিটিশ সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে এটা ছিল সাধারণ মানুষের সমবেত প্রতিবাদ। কিন্তু সন্ধে সাড়ে ৬টায় আচমকাই মাঠ ঘিরে ফেলে ইংরেজ পুলিশ বাহিনী।

ডিএসপি কুঞ্জবিহারী মোহান্তির নেতৃত্বে ব্রিটিশ পুলিশ তিনদিক ঘেরা এই মাঠ লক্ষ্য করে শুরু করে নির্বিচারে গুলি চালানো। বের হওয়ার পথ আটকে দেওয়ার ফলে অসহায় মানুষের প্রাণ বাঁচানোর কোনও উপায় ছিল না। রাইফেল থেকে ছু্েট আসা শয়ে শয়ে বুলেট গেঁথে যায় নিরস্ত্র মানুষের শরীরে। শহিদ হন ২৯ জন। বহু মানুষ আহত হন। রক্তে লাল হয়ে যায় এরম ময়দান। তারপর থেকে জায়গাটি ‘‌ওড়িশার জলিয়ানওয়ালাবাগ’ নামে পরিচিতি পায়।

বর্তমানে এই জায়গাটি ‘রক্ততীর্থ এরম’ নামে খ্যাত। জালিয়ানওয়ালা বাগের পর এটিই অন্যতম বড় পুলিশি হত্যাকাণ্ড। এই হত্যাকাণ্ডে পরি বেওয়া নামে এক বৃদ্ধা শহিদ হন। যিনি ওড়িশার স্বাধীনতা সংগ্রামে একমাত্র নারী শহিদ হিসেবে পরিচিত। এরম ছিল দুর্গম, যাতায়াতের অযোগ্য এবং শহর থেকে বহু দূরের জঙ্গলে ঘেরা একটি জায়গা।

১৯২০ সাল থেকে এটি উৎকল কংগ্রেসের সভার গোপন স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হত। গোপবন্ধু দাস , হরেকৃষ্ণ মহাত্মা এবং অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড়ো আন্দোলন বা অসহযোগ আন্দোলনের বিভিন্ন বার্তা ভাগ করে নিতে এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে গান্ধীবাদী আদর্শ প্রচার করার জন্য এরমকে জনসভার স্থান হিসাবে ব্যবহার করতেন। ‌

বর্তমানে শহিদদের স্মরণে এরমে একটি শহিদ স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি ওড়িশার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। প্রাকৃতিক দিক থেকেও জায়গাটি যথেষ্ট সুন্দর। গ্রামটির একপাশে বঙ্গোপসাগর এবং অন্য দু’‌পাশে গামেই ও কংসবাঁশ নদী বয়ে চলেছে। চারিদিকে সবুজের সামিয়ানা। প্রাকৃতিক দুর্গের মতো অবস্থানের কারণেই বিপ্লবীরা জায়গাটিকে তাদের গোপন কাজকর্মের আস্তানা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন।
কীভাবে যাবেন:‌
এরম যাওয়ার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায় রেলপথ। ট্রেনে চেপে নামতে হবে ভদ্রক। স্টেশন থেকে এরমের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। স্টেশন থেকে স্থানীয় বাস, ট্যাক্সি বা গাড়ি ভাড়া করে সরাসরি বাসুদেবপুর হয়ে এরমে পৌঁছনো যায়। যারা সড়কপথে যেতে চান তারা ১৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে সরাসরি পৌঁছতে পারেন ভদ্রক শহরে।

এছাড়াও বিমানে পৌঁছতে চাইলে নামতে হবে ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেখান থেকে এরমের দূরত্ব প্রায় ১৭৫ কিলোমিটার। সেক্ষেত্রে এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি ভাড়া করে সরাসরি অথবা ভুবনেশ্বর স্টেশন থেকে ট্রেনে ভদ্রক হয়ে এরমে যেতে হবে। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধে ৭ টা পর্যন্ত রক্ততীর্থ এরম খোলা থাকে। ভালভাবে ঘোরার জন্য বেছে নেওয়া যেতে পারে অক্টোবর থেকে মার্চ মাস। এই সময় আবহাওয়া অত্যন্ত মনোরম থাকে।

প্রতিবেদন

admin