দমকল ও পুরনিগমের যৌথ অভিযান হাতিবাগানে
সংবাদদাতা, কোলকাতা: দুর্গাপুজোর কেনাকাটায় এখন জমজমাট উত্তর থেকে দক্ষিণ কলকাতা। শহরের প্রতিটি শপিং মল ও বিপণিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। পুজো মরশুমে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নাগরিক সুরক্ষায় বিন্দুমাত্র আপস করতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন। অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থায় খামতি থাকায় ইতিমধ্যেই শহরের শতাধিক গেস্ট হাউস বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। এবার প্রশাসনের কড়া নজর পড়েছে শহরের বড় বড় শপিং মল এবং নামী পোশাক বিপণিগুলির ওপর।সেই সুরক্ষাবিধি খতিয়ে দেখতেই শুক্রবার দুপুরে উত্তর কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত কেনাকাটার কেন্দ্র হাতিবাগানের নামী পোশাক বিপণি ‘জুডিও’-তে হঠাৎ যৌথ অভিযানে নামল পশ্চিমবঙ্গ দমকল বিভাগ ও কলকাতা পুরসভা। শুক্রবার দুপুরে হাতিবাগানের জুডিও শপিং মলে পৌঁছান ফায়ার ব্রিগেডের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। এর কিছুক্ষণ পরেই সেখানে উপস্থিত হন কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা। দুটি বিভাগের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে মল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে শুরু করেন জোরদার ফায়ার অডিট বা অগ্নি-সুরক্ষা পরীক্ষা। দমকল ও পুরসভার আধিকারিকরা মলে প্রবেশের পর প্রথমে পুরো ভবনের জরুরি নির্গমনের পথ অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের কার্যকারিতা, স্প্রিংকলার সিস্টেম, স্মোক ডিটেক্টর এবং ওয়াটার রিজার্ভারের অবস্থা ঘুরে দেখেন।এরপর ফায়ার ডিপার্টমেন্টের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ওই বিপণির কর্মী ও নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের ডেকে কথা বলেন। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কীভাবে গ্রাহকদের দ্রুত ও নিরাপদে বের করে আনা সম্ভব, কর্মীদের সে বিষয়ে কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া আছে কি না, তা বিশদে জেনে নেন আধিকারিকরা। প্রাথমিক অডিটের পর দমকল বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা অবশ্য বিপণির অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা দেখে মোটের ওপর সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় কোনো গলদ বা ত্রুটি না মিললেও, ভিড়ের সময়ে দুর্ঘটনা এড়াতে ও নজরদারি বাড়াতে শপিং মলের ফায়ার সেফটি অফিসার ও ম্যানেজমেন্টকে বেশ কিছু জরুরি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অভিযান শেষে দমকলের স্টেশন অফিসার বরুণ দান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “পূজোর মরশুমে শপিং চলছে জোর কদমে। শপিং মলের মতো জনবহুল স্থানে অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থায় যাতে কোনো রকম খামতি না থাকে, সেই দিকেই কড়া নজর দিচ্ছে প্রশাসন। আমরা প্রতিটি জরুরি সরঞ্জাম খতিয়ে দেখেছি। এখানকার সার্বিক অডিট রিপোর্ট মোটামুটি সন্তোষজনক। তবে উৎসবের দিনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে এবং আপৎকালীন পথগুলি যাতে সব সময় বাধামুক্ত থাকে, সে বিষয়ে শপিং মল কর্তৃপক্ষকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, পুজো চলাকালীন শহরের অন্য যেকোনো বড় শপিং মল ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের আচমকা পরিদর্শন জারি থাকবে। উৎসবের আনন্দের মাঝে আমজনতার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই সরকারের এই উদ্যোগ।
