বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

স্বাধীন ভারতে সাঁতারে প্রথম সোনার পদক এনেও বিস্মৃত এক বাঙালি

15 August, 2026 12:10 PM admin
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন: ফি বছর ১৫ আগস্ট এলেই আলোচিত হয়, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগ, তেরঙ্গার গৌরব আর নতুন ভারতের স্বপ্নের কথা। কিন্তু স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু রাজপথে লেখা হয়নি, লেখা হয়েছে খেলার মাঠেও। স্বাধীনতার মাত্র চার বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে ভারতের হয়ে প্রথম সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করেছিলেন এক বাঙালি। তাঁর নাম শচীন নাগ। সময়ের স্রোতে সেই নাম আজ অনেকটাই বিস্মৃত।
দিল্লি, ১৯৫১। স্বাধীন ভারতের প্রথম এশিয়ান গেমস। ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলের ফাইনালে জলের বুক চিরে সবার আগে গন্তব্যে শচীন। মুহূর্তেই ইতিহাস। স্বাধীন ভারতের এশিয়ান গেমসে প্রথম স্বর্ণপদক এল সাঁতার থেকে। শুধু একটি পদক নয়, নবজাত দেশের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে উঠেছিল সেই জয়।
তবে এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। ১৯২০ সালে বারাণসীতে জন্ম শচীন নাগের। পরিবারের বর্ণনায় জানা যায়, স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে পুলিশের তাড়া এড়াতে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়েছিলেন কিশোর শচীন। কাকতালীয়ভাবে সেখানে চলছিল একটি দীর্ঘপাল্লার সাঁতার প্রতিযোগিতা। কোনও প্রস্তুতি ছাড়াই সেই প্রতিযোগিতায় নেমে তৃতীয় হন তিনি। অনেকের মতে, সেখান থেকেই ধরা পড়ে তাঁর অসাধারণ সাঁতারের প্রতিভা। পরে কলকাতায় এসে নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশের অন্যতম সেরা সাঁতারু হয়ে ওঠেন।
দেশ স্বাধীন হলেও, শচীন নাগের জীবনের লড়াই থামেনি। ১৯৪৭ সালের সাম্প্রদায়িক অশান্তিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সুস্থ হয়ে আবার জলে ফিরেছিলেন অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে। ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নেওয়ার স্বপ্নও অর্থাভাবে ভেঙে যাওয়ার মুখে পড়েছিল। ভোরবেলা গাড়ি ধুয়ে অর্থ উপার্জন করেছেন। শেষ পর্যন্ত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ হওয়ায় অলিম্পিকে যাওয়ার পথ খুলে যায়।
খেলোয়াড় হিসেবে সাফল্যের পর কোচ হিসেবেও দেশের সাঁতারকে সমৃদ্ধ করেছিলেন শচীন নাগ। তাঁরই শিষ্যদের অন্যতম ছিলেন ইংলিশ চ্যানেলজয়ী আরতি সাহা। জীবদ্দশায় প্রাপ্য স্বীকৃতি পুরোপুরি না পেলেও, ইতিহাস শেষ পর্যন্ত তাঁকে ভুলে যায়নি। ২০২৫ সালে প্রথম ভারতীয় হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল সুইমিং হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন শচীন নাগ।
স্বাধীনতার ইতিহাসে কিছু নায়ক বন্দুক হাতে লড়েছেন, আবার কিছু নায়ক দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন নিজেদের কৃতিত্বে। শচীন নাগ সেই দ্বিতীয় সারির নায়কদের একজন। তাঁর জেতা সোনার পদক যেন স্বাধীন ভারতের আত্মবিশ্বাসের প্রথম সোনালি স্বাক্ষর।

প্রতিবেদন

admin