কৌশি অমাবস্যায় তারাপীঠে দেড় শতাধিক চুরি–ছিনতাই
সংবাদদাতা, বীরভূম: কৌশি অমাবস্যা উপলক্ষে তারাপীঠে উপচে পড়েছিল ভক্ত সমাগম। মন্দির কমিটির হিসেব অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক লক্ষ মানুষ এসেছিলেন মা তারাকে দর্শন করতে। চোখে পড়েছে বেশ কিছু বিদেশিকেও। কিন্তু ভিড়ের সুযোগে এদিন ব্যাপক চুরি–ছিনতাইয়ের সাক্ষী থাকল বাংলার এই প্রখ্যাত শক্তিপীঠ। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ টিরও বেশি চুরি, ছিনতাইয়ের অভিযোগ জমা পড়েছে থানায়। আটক করা হয়েছে ৩২ জনকে। তবে পুলিশের দাবি, গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা অনেকটাই কম।
জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি অভিযোগ দায়ের হয়েছে গয়না ও মানিব্যাগ ছিনতাইয়ের। কমপক্ষে ১০টি এধরণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল হারানো ও চুরির অভিযোগের সংখ্যাও প্রচুর।
যদিও কৌশি অমাবস্যা উপলক্ষে মন্দির চত্বর ঘিরে ফেলা হয়েছিল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায়। তারাপীঠের নিরাপত্তায় ছিলেন ৪ হাজারেরও বেশি পুলিশকর্মী এবং ৩০০র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। নজরদারির জন্য ছিল ফেস রেকগনিশন ক্যামেরা। তারাপীঠ থানার সামনে ছিল বিশেষ কন্ট্রোল ওয়ার রুম। কন্ট্রোল রুমের পুলিশকে ব্যাকআপ হিসেবে রাখা হয়েছিল। এত কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও চুরি–ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠায় প্রশ্ন উঠছে নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে।
বৃহস্পতিবার রাতেই ফেসবুক লাইভে এক মহিলা তাঁর গয়না ছিনতাইয়ের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন কন্ট্রোল রুমে কয়েকশো পুলিশকর্মী থাকলেও তাঁরা ঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারলেন না কেন? পুলিশের বক্তব্য, কন্ট্রোল রুমে থাকা পুলিশকর্মীদের একটি অংশকে বড় কোনও দুর্ঘটনা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর জন্য তৈরি রাখা হয়েছিল।
