Duleep Trophy: দলীপ ট্রফির ফাইনালে বড় ব্যবধানে এগিয়ে পূর্বাঞ্চল
চেন্নাই: চিপকে দলীপ ট্রফির ফাইনালের চতুর্থ দিনেও ছবিটা বদলাল না। বরং পূর্বাঞ্চল আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল ট্রফির দিকে। প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানের লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ২১২/৫ তুলে দিন শেষ করেছে তারা। অর্থাৎ ম্যাচে সামগ্রিক লিড এখন ৫৮৪ রানের। হাতে আর এক দিনের খেলা। ফলে শেষ দিনে নাটকীয় কোনও পরিবর্তন না হলে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে থাকার সুবিধা নিয়ে দলীপ ট্রফি ঘরে তুলতে চলেছে পূর্বাঞ্চল।

দলীপ ট্রফির ফাইনালে চালকের আসনে পূর্বাঞ্চল
পূর্বাঞ্চলের এই দাপটের শুরু অবশ্য প্রথম ইনিংস থেকেই। অধিনায়ক ঈশান কিশনের ২৭০ রানের দুরন্ত ইনিংসের উপর ভর করে ৭০৮ রান তোলে তারা। ঈশানের সঙ্গে কুমার কুশাগ্র ১০১, শিখর মোহন ৮৫ এবং অভিমন্যু ঈশ্বরণ ৭২ রান করেন। জবাবে দক্ষিণাঞ্চলের ইনিংস থামে ৩৩৬ রানে। দেবদত্ত পাড়িক্কলের ৬২ এবং তিলক ভার্মার ৯৯ রানের লড়াইও সেই বিশাল ব্যবধান আটকাতে পারেনি।
আরও পড়ুন: Duleep Trophy: ব্যাটে পাহাড়, বলে আগুন—শামি-মুকেশে জয়ের দরজায় পূর্বাঞ্চল
আরও পড়ুন: Duleep Trophy: ইশান কিষানের ২৭০! চিপকে ৭০৮ রানের পাহাড়ে পূর্বাঞ্চল
তৃতীয় দিনের শেষে দক্ষিণাঞ্চল ছিল ২৪২/৬। অর্থাৎ ফলো-অন এড়াতেও তাদের সামনে বড় কাজ ছিল। চতুর্থ সকালে তিলক ও চামা মিলিন্দ সেই কাজটাই কিছুটা সহজ করে দিচ্ছিলেন। দু’জনে মিলে জুটি গড়ে পূর্বাঞ্চলের বোলারদের অপেক্ষায় রাখেন। কিন্তু মিলিন্দ ৪৩ রানে ফিরতেই ফের চাপ বাড়ে দক্ষিণাঞ্চলের উপর। তাঁকে ফেরান শিখর মোহন। এরপরও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিলক।
শতরান থেকে মাত্র এক রান দূরে তখন দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক। কিন্তু ৯৯-এই থামতে হয় তাঁকে। কৌনাইন কুরেশির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিলক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আর একটি শতরান থেকে এক রান দূরে থেমে গেল তাঁর ইনিংস। আর তিলক ফিরতেই দ্রুত গুটিয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের বাকি ইনিংস। ৩৩৬ রানে শেষ হয় তারা।
৩৭২ রানের লিড হাতে পেয়েও ফলো-অন করায়নি পূর্বাঞ্চল। এত বড় সুবিধা নিয়ে বোলারদের ফের মাঠে নামানোর বদলে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংস খেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করাই ছিল স্বাভাবিক সিদ্ধান্ত। যদিও শুরুটা পূর্বাঞ্চলের জন্যও স্বস্তির ছিল না।
ব্যর্থ বাংলার দুই ক্রিকেটার
১৩ রানের মধ্যেই ফিরে যান দুই ওপেনার। বৈভব সূর্যবংশী ৮ রানে স্টাম্পড। অভিমন্যু ঈশ্বরণ ফিরলেন মাত্র ৩ রানে। প্রথম ইনিংসে ৭২ করা ঈশ্বরণের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যর্থতা তাই চোখে পড়েছে। রঞ্জি ট্রফির আগে তাঁর ফর্ম নিয়ে নজর থাকবে। সুদীপ ঘরামিও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২।
সেখান থেকে ম্যাচের হাল ধরেন ঈশান কিশন ও শিখর মোহন। তৃতীয় উইকেটে ১২৬ রান যোগ করেন তাঁরা। প্রথম ইনিংসে ২৭০ করার পর ঈশান দ্বিতীয় ইনিংসেও বড় রানের দিকে এগোচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত ৮০ রানে থামতে হয় তাঁকে। শিখর মোহনের ব্যাট থেকে আসে ৫২।
মাঝে ফের কিছুটা চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই জায়গা থেকে দলকে টেনে নিয়ে যান কুমার কুশাগ্র ও কৌনাইন কুরেশি। দিনের শেষে কুশাগ্র ৩৪ এবং কুরেশি ২৬ রানে অপরাজিত। পূর্বাঞ্চলের হাতে এখন পাঁচটি উইকেট। শেষ দিনে আরও কিছু রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করাই হতে পারে তাদের পরবর্তী পরিকল্পনা।
তারপর দক্ষিণাঞ্চলের সামনে থাকবে শুধু ম্যাচ বাঁচানোর লড়াই। কারণ ৫৮৪ রানের সামগ্রিক লিড পেরিয়ে জয় পাওয়া তো দূরের কথা, প্রথম ইনিংসে ৩৭২ রানে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচ বাঁচাতেই তাদের খেলতে হবে দীর্ঘ সময়।
পূর্বাঞ্চলের শেষ দলীপ ট্রফি জয় এসেছিল ২০১২-১৩ মরসুমে। তার আগের মরসুমেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। মাঝে আঞ্চলিক ফরম্যাটে প্রতিযোগিতা না হওয়া এবং কোভিডের কারণে দু’বছর খেলা বন্ধ থাকার ফলে অপেক্ষাটা আরও দীর্ঘ হয়েছে। এবার সেই অপেক্ষার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পূর্বাঞ্চল।
ক্রিকেটে শেষ বল না হওয়া পর্যন্ত কিছুই নিশ্চিত নয়। কিন্তু চেপকের স্কোরবোর্ড এখন যে গল্প বলছে, তাতে দক্ষিণাঞ্চলের সামনে লড়াইটা ম্যাচ জেতার নয়—আগে হার এড়ানোর। আর পূর্বাঞ্চলের সামনে ১৪ বছর পর ট্রফি ছোঁয়ার শেষ এক দিনের অপেক্ষা।
