দেশবিরোধী গ্যাংকে শিকড় থেকে উপড়ে ফেলব: শুভেন্দু
সংবাদদাতা, কলকাতা: গেরুয়া সম্মান যাত্রায় অংশ নিয়ে রাজ্যের বিজেপি বিরোধী শক্তিকে একযোগে আক্রমণ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার গোলপার্ক থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত গেরুয়া সম্মান যাত্রায় অংশ নেন তিনি। সেই পদযাত্রায় ছিলেন একাধিক সাধু, সন্ত, ধর্মগুরুরা। মিছিল শেষে জনসভায় শুভেন্দু চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, দেশবিরোধী গ্যাংকে কীভাবে সাফ করতে হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি তা ভালভাবেই জানেন।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গেরুয়া নিয়ে কোনও অপশব্দ বলা বা লেখার আগে অন্তত পাঁচবার ভাববেন। গেরুয়ার অপমান এই বাংলা বরদাস্ত করবে না। আর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বসে কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি, ফ্রি প্যালেস্টাইন কিংবা কিষাণজীর লাল সেলাম জানানোর দেশবিরোধী গ্যাংকে কীভাবে সাফ করতে হয়, সেটা আমার জানা আছে।”
ক্ষমতায় আসার পর থেকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে রাষ্ট্রবিরোধী মানসিকতাকে একই পংক্তিতে রাখার চেষ্টা করেছে বিজেপি। এদিন সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দেশের ভেতরে থেকে যারা রাষ্ট্রের ক্ষতি করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তাদের আধ্যাত্মিক ও জাতীয়তাবাদী চেতনার মাধ্যমে জবাব দিতে তিনি ভবিষ্যতে যাদবপুর প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী গীতা পাঠ ও হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করবেন। বৃহস্পতিবারই বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন বসবে। সেই অধিবেশনে দি ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬ পাস করবে রাজ্য। সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “যাদবপুর যা ঋষি অরবিন্দ ও জাতীয়তাবাদের পূণ্যভূমি, সেখান থেকে দেশবিরোধী সংস্কৃতি, সমাজবিরোধীদের প্রশ্রয়দাতাদের শিকড়সমেত উপড়ে ফেলার সংকল্প নিয়েছি।”
এদিন সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, “আমি পণ করেছিলাম ২০১১-তে রাজ্যে কমিউনিস্ট শাসনের পতন ঘটাব। আর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ২০২৬-এ এই জামাত সরকারের পতন ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের সরকার গড়ার পণ করেছিলাম। আপনাদের সমর্থনে তা বাস্তবায়িত হয়েছে।”
আর বুধবার দ্বিতীয় দফায় ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ করলেন তিনি। রাখির দিনের কর্মসূচিতে যোগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেস তো বটেই, নিশানা করেছিলেন এককালীন সিপিএম শাসনকেও। অভিযোগ করেন, কমিউনিস্টদের আমলে এই প্রতিষ্ঠানে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র বা বিদ্যাসাগরের ছবি ঠাঁই পেত না। তারা নেতাজিকে ‘তোজোর কুকুর’ এবং রবীন্দ্রনাথকে ‘বুর্জোয়া কবি’ বলেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেলগুলিতে ‘থ্রেট কালচার’ বা ভয় দেখানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন করারই বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
